পরমাণু যুদ্ধের দোরগোড়ায় দুনিয়া! ইরানের এই ১টি গোপন চাল আটকাতে হাত মেলালেন ট্রাম্প ও জিনপিং!

বিশ্বরাজনীতিতে ওয়াশিংটন এবং বেজিংয়ের সম্পর্ক চিরকালই সাপে-নেউলে। বাণিজ্য যুদ্ধ থেকে শুরু করে তাইওয়ান প্রণালীর অধিকার—একাধিক ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিংয়ের সংঘাতের খবর প্রায়শই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকে। কিন্তু এবার বিশ্বের দুই মহাশক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই সমস্ত বৈরিতা ও পারস্পরিক বিরোধ ভুলে এক নজিরবিহীন বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত হলেন। তাঁদের যৌথ বার্তা—কোনো অবস্থাতেই যেন ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র বা তা তৈরির কাঁচামাল না পৌঁছায়। যদি তেমনটা ঘটে, তবে ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে গোটা পৃথিবী।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল সূত্রে খবর, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নতুন করে গতি পেয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ, তেহরান অত্যন্ত গোপনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির মূল উপাদান। ইরান যদি একবার পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে এবং তা অবধারিতভাবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে গোটা বিশ্বকে।

এই চরম বিপদ আঁচ করেই এবার এককাট্টা হয়েছে আমেরিকা ও চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া মানে বিশ্বশান্তিকে চিরতরে কবর দেওয়া। আমেরিকা তাদের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও চীন এই বিষয়ে আমেরিকার সুরেই সুর মিলিয়েছে। শি জিনপিং স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এশিয়ায় কোনো নতুন পরমাণু শক্তির উত্থান বেজিং কোনোভাবেই সমর্থন করবে না, কারণ এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেলের বাজার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের মতো দুই বিপরীত মেরুর নেতার এই বিষয়ে একমত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর থেকে পরিষ্কার যে, ইরানের পরমাণু আগ্রাসন রুখতে পর্দার আড়ালে এক বড়সড় আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত হচ্ছে। বিশ্বের এই দুই প্রধান চালিকাশক্তি একজোট হয়ে ইরানের এই ‘মনস্টার প্রজেক্ট’ রুখতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy