মহারাষ্ট্রের পুনের হাদাপসার এলাকার একটি নামী হাসপাতালে জীবন্ত বোমা (IED) রাখার ঘটনায় অবশেষে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ ও এটিএস (ATS)। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়ানো মূল অভিযুক্ত শিবাজি রাঠোড়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই গ্রেফতারিটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা জেলার পুলগাঁও রেল স্টেশন থেকে। শালিমার এক্সপ্রেসে চেপে নাগপুর পালিয়ে যাওয়ার পথেই চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে যৌথ অভিযানে আটক করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
হাসপাতালের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গায় বিস্ফোরক ডিভাইস উদ্ধারের পর থেকেই গোটা রাজ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। নড়েচড়ে বসেছিল দেশের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থাগুলোও। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পুনে পুলিশ ১০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ স্ক্যান করে। সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর ভিত্তি করে অন্তত ১৫ থেকে ১৮ জনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শেষমেশ ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে নাগপুর এটিএস, পুনে এটিএস এবং আরপিএফ (RPF) যৌথভাবে পুলগাঁও রেল স্টেশনে এক চরম গোপনীয় অপারেশন চালায়। ১৮০২৯ শালিমার এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে এসে থামতেই অভিযুক্ত শিবাজি রাঠোড়কে ঘিরে ফেলা হয় এবং কোনো সুযোগ না দিয়েই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
জঙ্গি যোগ নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ?
এই হাই-প্রোফাইল মামলার সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক দিকটি হলো, প্রাথমিক তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, এর পেছনে কোনো জঙ্গি হানা বা বড়সড় নাশকতার ছক ছিল না। মূলত আতঙ্ক ছড়ানো এবং ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ মেটাতেই অভিযুক্ত এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, শিবাজি রাঠোড় হয়তো হাসপাতালের কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিলের পরিমাণ কিংবা সেখানকার কোনো কর্মচারীর আচরণে তীব্র ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই পুরনো বিবাদের প্রতিশোধ নিতেই কি সে এমন ভয়ঙ্কর পথ বেছে নিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় সে একাই জড়িত ছিল নাকি এর পেছনে আরও কারও হাত রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ধৃতকে কড়া নিরাপত্তায় ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
কিছুদিন আগে পুনের হাদাপসারের ওই হাসপাতালের বাইরে একটি টাইমারযুক্ত সন্দেহজনক বোমা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। তড়িঘড়ি হাসপাতাল খালি করে দিয়ে বম্ব স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়। প্রায় ৭ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও রোগী ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ভীতি তৈরি হয়। সিসিটিভি ও কারিগরি প্রমাণের ভিত্তিতে অবশেষে সেই ঘটনার মূল চক্রী এখন শ্রীঘরে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরকগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খুব দ্রুত আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হবে।





