লটারি পুরোপুরি ভাগ্যের খেলা বলেই আমরা জানি। কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে একজনের ভাগ্য ফেরাটাই যেখানে অলৌকিক ব্যাপার, সেখানে যদি কেউ এক বা দুবার নয়, বরং টানা ১৮ বার লটারি জেতেন, তবে অবাক হওয়াই স্বাভাবিক। মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এর পেছনে কি কোনো গোপন কৌশল বা জাদুকরী নম্বর লুকিয়ে আছে? আমেরিকার বাসিন্দা রবার্ট বেভানের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটেছে। কিন্তু টানা ১৮ বার লটারি জেতার পর সাফল্যের যে রহস্য তিনি ফাঁস করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখ লাখ মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর বাসিন্দা রবার্টের ভাগ্যের চাকা প্রথম ঘুরেছিল ১৯৯৭ সালে। সে বছর লটারিতে একটি গাড়ি জিতে তাঁর এই অবিশ্বাস্য যাত্রার শুরু হয়। তারপর থেকে ভাগ্য যেন তাঁর ওপর সব সময়ই সদয়। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় জয়টি ছিল ২,০০,০০০ ডলারের, যা ভারতীয় মুদ্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকারও বেশি।
সম্প্রতি আইডাহো লটারির ‘$1,000,000 কিং স্ক্র্যাচ’ গেম খেলে তিনি আবারও ৫০,০০০ ডলার অর্থাৎ প্রায় ৪৮ লাখ টাকা জিতে নেন। এটি ছিল রবার্টের জীবনের ১৮তম জয়। লটারি দপ্তরের কর্মকর্তারা যখন রবার্টের হাতে তাঁর ১৮তম বিজয়ী চেকটি তুলে দিচ্ছিলেন, তখন তাঁরা নিজেরাও হতবাক হয়ে যান। একজন মানুষের ভাগ্য কীভাবে এতটা ধারাবাহিক হতে পারে, তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছিলেন না কর্মকর্তারা।
স্বভাবতই সবাই ভেবেছিলেন, রবার্ট হয়তো টিকিট কেনার কোনো শুভ সময় বা কোনো গোপন গাণিতিক ফর্মুলার কথা বলবেন। কিন্তু রবার্ট যা করলেন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তিনি হেসে তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকালেন এবং বললেন, তাঁর প্রতিটি জয়ের পেছনে রয়েছে তাঁর স্ত্রী। তবে স্ত্রী তাঁকে কোনো বিজয়ী সংখ্যা বেছে দেন না।
রবার্ট আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “টাকা তো শুধুই কাগজের টুকরো। আমার জীবনের আসল জ্যাকপট হলো আমার স্ত্রী। আমরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে একসঙ্গে আছি। দুজনে মিলে লটারির টিকিট কেনা আর খেলাটা আমাদের কাছে শুধুই আনন্দের মাধ্যম এবং কোয়ালিটি টাইম কাটানোর একটা উপায়।”
রবার্টের এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই সাধারণ মানুষ টাকার চেয়ে তাঁদের সুন্দর সম্পর্কের প্রশংসায় মেতে উঠেছেন। এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “১৮টি লটারির চেক যাঁর কাছে আছে তিনি ধনী নন, বরং যিনি ৪০ বছর ধরে এক ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে আছেন, তিনিই আসল ধনী।” রবার্টের এই গল্প প্রমাণ করে দিল, জীবনের আসল সম্পদ লটারির টাকা নয়, বরং প্রিয় মানুষের ভালোবাসা।





