আকাশে ভারতের রাজত্ব! ১১৪টি বিধ্বংসী যুদ্ধবিমানের মেগা ডিল চূড়ান্ত, কাঁপছে চীন-পাকিস্তান?

ভারত মহাসাগর থেকে হিমালয়—সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে আকাশপথে নিজের শক্তি দ্বিগুণ করতে কোমর বেঁধে নামছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF)। সূত্রের খবর, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (MRFA) কেনার জন্য প্রয়োজনীয় দরপত্র বা ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ (RFP) চূড়ান্ত করে ফেলেছে বায়ুসেনা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার বা ৩.৩ লক্ষ কোটি টাকার এই মেগা ডিলটি ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসের বৃহত্তম চুক্তি হতে চলেছে।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর বর্তমান স্কোয়াড্রন সংখ্যা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন ও পাকিস্তানের দ্বৈত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেখানে ৪২টি স্কোয়াড্রন প্রয়োজন, সেখানে বর্তমান সংখ্যা তার চেয়ে অনেকটাই কম। এই ঘাটতি পূরণ করতেই এই ১১৪টি বিমানের পরিকল্পনা। প্রকল্পের নীল নকশা অনুযায়ী, বায়ুসেনার তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে প্রথম ২২টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে তৈরি অবস্থায় (Fly-away condition) ভারতে আসবে। বাকি ৯২টি যুদ্ধবিমান ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ভারতেই তৈরি হবে। এই দেশীয় উৎপাদনে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ যন্ত্রাংশ ভারতীয় হবে, যা প্রতিরক্ষা শিল্পে বিপ্লব আনবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দৌড়ে ফ্রান্সের ‘রাফাল’ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ভারত ইতিমধ্যেই ৩৬টি রাফাল ব্যবহার করছে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো আম্বালা ও হাসিমারায় মজুত রয়েছে। ‘অপারেশন সিন্ধু’-তে রাফাল যেভাবে নিজের মারণ ক্ষমতা প্রমাণ করেছে, তাতে বায়ুসেনার প্রথম পছন্দ হিসেবে এটিই উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন ফ্রান্স সফরের আগেই এই প্রস্তুতির চূড়ান্ত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তিটি ২০২৬ সালের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শর্তানুযায়ী, চুক্তি সই হওয়ার ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে প্রথম দফার বিমানগুলি বায়ুসেনার হাতে পৌঁছাবে। ভারতে বিমান তৈরির ফলে কেবল কয়েক হাজার কর্মসংস্থানই তৈরি হবে না, বরং দেশীয় সংস্থাগুলো অত্যাধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি শিখতে পারবে। সব মিলিয়ে ২০৩০-এর দশকের শুরুতে ভারতের আকাশসীমা এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হতে চলেছে।