“সংযুক্ত আরব আমিরাত আমার দ্বিতীয় বাড়ি!” উত্তাল পশ্চিম এশিয়ায় আমিরাতের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে কী বার্তা দিলেন মোদী?

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সংঘাতের আবহে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সফরে গিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সংকটকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অটল সংকল্প এবং দৃঢ়তার প্রশংসা করে মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত সবসময় তার এই অকৃত্রিম বন্ধুর পাশে আছে। আবুধাবিতে এক আবেগঘন বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার এই বর্তমান অস্থিরতা কেবল একটি অঞ্চলের নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য এক গভীর সংকট।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ভারতের আত্মিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই দেশটিকে তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁকে যেভাবে রাজকীয় সম্মানে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ আপনাদের বিমান বাহিনী যেভাবে আমাদের বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে এসেছে, তা ভারতের ১৪০ কোটি জনগণের জন্য এক বিশাল সম্মান।” সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতিও তিনি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সবথেকে কঠোর দিকটি ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা। ইরান যুদ্ধের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন মোদী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হওয়া এই হামলার ঘোরতর নিন্দা জানাই। যেভাবে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রকে টার্গেট করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সন্ত্রাসবাদ এবং উস্কানিমূলক হামলার বিরুদ্ধে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি যেভাবে সংযম ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তা বিশ্বনেতাদের কাছে এক বড় উদাহরণ। দেশের ঐক্য, নিরাপত্তা এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় আমিরাত প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে অভিনন্দন জানান মোদী। কূটনৈতিক মহলের মতে, মোদীর এই সফর এবং সরাসরি পক্ষাবলম্বন ভারত-আমিরাত কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব আরও সুদৃঢ় করবে।