পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। শুক্রবার বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে শপথ নিলেন বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের এই দক্ষ রাজনীতিককে বিজেপির পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে স্পিকার পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে তাঁর গলায় শোনা গেল কখনও সৌজন্যের সুর, আবার কখনও কঠোর হুঁশিয়ারি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণে মূলত জোর দেন বিধানসভার গরিমা ও সংসদীয় গণতন্ত্রের পরম্পরা বজায় রাখার ওপর। তিনি বলেন, “বিধানসভা মারামারি করার জায়গা নয়। আমরা চাই গঠনমূলক বিরোধিতা। বিরোধীরা তাদের কথা বলুক, প্রস্তাব রাখুক, কিন্তু তা যেন যথাযথ নিয়মে হয়।” তিনি সাফ জানান যে, জনগণের জানা উচিত তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে। অতীতে বিধানসভার অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া নানা অপ্রীতিকর ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমি চাই পুরোনো ভুলভ্রান্তি সরিয়ে রেখে আমরা সংবিধান ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরম্পরা মেনে বিধানসভার অধিবেশনে অংশগ্রহণ করি।”
বিধানসভার স্বচ্ছতা বাড়াতে এদিন একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, অন্যান্য রাজ্যের বিধানসভার কার্যক্রম মানুষ সরাসরি দেখতে পেলেও, বাংলার মানুষ অন্ধকারে থাকেন। তাই তাঁর দাবি, স্পিকারের নেতৃত্বে বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিতর্ক ও বিল পাস ইত্যাদি সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে বিধায়কদের পারফরম্যান্স সম্পর্কে মানুষ সচেতন হতে পারবেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস বিধানসভার বাইরে রেখে অধিবেশন চালানোর পক্ষপাতী তিনি নন। পাশাপাশি বিধায়কদের শারীরিক নিগ্রহের কড়া নিন্দা করে তিনি ভাষা ব্যবহারে শালীনতা এবং দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সংবিধানের মূল স্তম্ভ ‘Of the people, by the people, for the people’ মন্ত্রেই যে এই নতুন সরকার পরিচালিত হবে, তা তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন। সবশেষে, ভোট-পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ২০১১-র হিংসার সঙ্গে যুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে, তবে যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই অথচ ঘরছাড়া, পুলিশ তাঁদের সসম্মানে বাড়ি ফিরিয়ে দেবে।





