চীন-আমেরিকা মৈত্রীতে নয়া মোড়! ট্রাম্পকে নিজের অন্দরমহলে নিয়ে গিয়ে কী চমক দিলেন জিনপিং?

বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রবল প্রতিপক্ষ কি এবার বন্ধুত্বের পথে? চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। বেইজিং সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে যে রসায়ন ধরা পড়ল, তা এক কথায় নজিরবিহীন। কেবল সরকারি বৈঠক নয়, জিনপিং এবার ট্রাম্পকে নিয়ে গেলেন তাঁর খাস তালুক ‘জংনানহাই লিডারশিপ কম্পাউন্ড’-এ, যেখানে চীনের শীর্ষ নেতারা বসবাস করেন এবং যেখান থেকে গোটা দেশ পরিচালিত হয়।

শুক্রবার সকালে এক অত্যন্ত হালকা মেজাজে দুই নেতাকে জংনানহাইয়ের রাজকীয় উদ্যান ঘুরে দেখতে দেখা যায়। ইতিহাসের গন্ধে মোড়া এই প্রাঙ্গণ এককালে সম্রাটদের বাগান ছিল। জিনপিং ট্রাম্পকে দেখান শতবর্ষ প্রাচীন এক বৃক্ষ, যার বয়স প্রায় ৪৯০ বছর। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁক ব্যাখ্যা করার সময় জিনপিংয়ের কণ্ঠে ছিল আভিজাত্য আর ট্রাম্পের চোখে ছিল বিস্ময়। উদ্যানের চীনা গোলাপ দেখে মুগ্ধ ট্রাম্প বলে ওঠেন, “এগুলোই সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর গোলাপ।” বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে জিনপিং সেই গোলাপের বীজ ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যা হোয়াইট হাউসের ‘রোজ গার্ডেন’-এ রোপণ করা হবে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই জংনানহাই প্রাঙ্গণে বিদেশি অতিথিদের পদার্পণ অত্যন্ত বিরল। ট্রাম্প যখন জিনপিংকে প্রশ্ন করেন যে তিনি অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এখানে আনেন কি না, জিনপিং সরাসরি জানান—এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ঘটনা। এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখানে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। ট্রাম্পের জন্য এই বিশেষ আয়োজন স্পষ্ট করে দেয় যে, চীন-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শি জিনপিং এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছেন। ট্রাম্পও এই আতিথেয়তায় আপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার এটি দারুণ লেগেছে।”

যদিও একই সময়ে পুতিনের সম্ভাব্য চীন সফরের ঘোষণাও এসেছে, তবে ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের এই ব্যক্তিগত স্তরের সুসম্পর্ক বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দুই নেতার এই ‘গঠনমূলক’ সম্পর্ক আগামীর বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy