রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সৌজন্য এবং আধুনিকীকরণের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৮তম বিধানসভার স্পিকার হিসেবে উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র রথীন্দ্র বোসের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ ঐতিহাসিক প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, শাসকদলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দমনে তিনি বিশ্বাসী নন। বরং এক সুস্থ ও গঠনমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়াই তাঁর লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন যে, সংসদীয় রীতিনীতিকে আরও স্বচ্ছ করতে এবার থেকে বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্ব, জিরো আওয়ার, বাজেট অধিবেশন এবং বিল পেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির সরাসরি বা লাইভ সম্প্রচার করা হবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “বিধায়করা অধিবেশনে আসছেন কি না, তাঁরা এলাকার মানুষের কথা বলছেন কি না—তা ভোটার বা গণদেবতাদের জানার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।” স্বচ্ছতা আনতে ভোটাভুটির ক্ষেত্রে কাগজের বদলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এমনকি ভবিষ্যতের ডিলিমিটেশনের কথা মাথায় রেখে একটি অত্যাধুনিক নতুন বিধানসভা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিরোধী শিবিরের প্রতি বিশেষ সৌজন্য দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, সংখ্যাতত্ত্বে বিরোধীরা কম হলেও বিধানসভার সময় বরাদ্দের ক্ষেত্রে ‘৫০-৫০’ নীতি বজায় রাখা হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই না বিরোধী দলনেতাকে মাসের পর মাস সাসপেন্ড করে অধিবেশন চালানো হোক।” নাম না করে গত বিধানসভার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানান, এবারের সরকার বিরোধীদের পূর্ণ মর্যাদা দেবে। এমনকি মন্ত্রীদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিরোধী বিধায়করা দেখা করতে চাইলে যেন সময় দেওয়া হয় এবং কোনো মন্ত্রী জেলা সফরে গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ককে যেন আগাম খবর দেওয়া হয়।
আগামী ১৮ জুন থেকে রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে শুরু হতে চলেছে বিধানসভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন। নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বোস উত্তরবঙ্গ থেকে এই পদে আসীন হওয়া প্রথম ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নাম প্রস্তাব করেন এবং প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে তিনি নির্বাচিত হন। শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিরোধীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মহান ঐতিহ্য মেনে সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচিত করার জন্য প্রধান বিরোধী দলকেও সাধুবাদ জানাই।” সব মিলিয়ে, শুভেন্দুর এই ইতিবাচক মনোভাব রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





