ভুল মোদী সরকারের, খেসারত দেবে আমজনতা! পেট্রোল-ডিজেলের অগ্নিমূল্যে রাহুল বনাম কেন্দ্র সংঘাত তুঙ্গে

সপ্তাহের শেষেই মধ্যবিত্তের পকেটে বড় কোপ। দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম একধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়ার পর থেকেই রাজনৈতিক পারদ আকাশচুম্বী। এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সাফ দাবি, সরকারের ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে, বিশ্ব বাজারের দোহাই দিয়ে এই দাম বৃদ্ধিকে কার্যত আড়াল করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র।
রাহুলের ‘তোলাবাজি’র তোপ:
শুক্রবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধির খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ গর্জে ওঠেন রাহুল গান্ধী। কড়া ভাষায় তিনি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি আসলে মোদী সরকারের অপরিকল্পিত নীতির ফল। তিনি একে “তোলাবাজি” বা (Extortion)-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সরকার কিস্তিতে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা আদায় করছে। রাহুল লেখেন, “ভুল মোদী সরকারের, কিন্তু দাম চোকাতে হবে জনতাকে। ৩ টাকার ধাক্কা তো সবে এসেছে, বাকি টাকা কিস্তিতে করা হবে।” অর্থাৎ, বিরোধী শিবিরের আশঙ্কা, আগামী দিনে আরও কয়েক দফায় বাড়তে পারে তেলের দাম।
কত বাড়ল দাম?
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দিল্লিতে পেট্রোলের দাম ৯৪.৭৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৭.৭৭ টাকা। ডিজেলের দামও পাল্লা দিয়ে ৮৭.৬৭ টাকা থেকে বেড়ে ৯০.৬৭ টাকা ছুঁয়েছে। দেশের অন্যান্য মহানগরীগুলিতেও এই প্রভাব পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামের মাঝে এই ৩ টাকার বৃদ্ধি আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কেন্দ্রের যুক্তি ও বিশ্ব বাজার:
তবে রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণকে মোটেও গুরুত্ব দিতে নারাজ সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই মূল্যবৃদ্ধির স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে গোটা বিশ্ব যখন জ্বালানির দামে নাজেহাল, তখন ভারত অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাঁর দাবি, যেখানে বিদেশের বাজারে তেলের দাম ২০% থেকে ১০০% পর্যন্ত বেড়েছে, সেখানে ভারতে পেট্রোলের দাম মাত্র ৩.২% এবং ডিজেলের দাম ৩.৪% বেড়েছে।
রিজিজু প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও ভারতের সরকারি তেল সংস্থাগুলো কয়েক সপ্তাহ বিপুল লোকসান সহ্য করে নাগরিকদের মুদ্রাস্ফীতি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। সরকারের মতে, এটি একটি “দায়িত্বশীল সরকার”-এর পরিচয়।
আসল কারণ কী?
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইজরায়েল এবং ইরান সংঘাত। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চড়চড় করে বাড়ার ফলেই দেশীয় বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক তরজা যাই হোক না কেন, তেলের এই চড়া দাম যে সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বড় ধাক্কা দেবে, তা বলাই বাহুল্য।