শুক্রবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই দেশজুড়ে একলাফে অনেকটা বেড়ে গিয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কার্যত দার্শনিক ব্যাখ্যা দিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাদের কাজ করতে হবে। জিনিসের অভাব নেই, তবে সমস্যা তো কিছু আছেই। আগে কষ্ট করলে পরে কষ্ট কম হবে।” তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সরকার যতটা সম্ভব চাপ সহ্য করার পরেই এই দাম বাড়ানো কার্যকর করেছে।
এদিন দিলীপ ঘোষের গলায় যেমন জ্বালানির দাম নিয়ে সাফাই শোনা গিয়েছে, তেমনই শিক্ষা এবং দেশভক্তি নিয়েও ছিলেন সরব। স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ পাঠ বাধ্যতামূলক করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাচ্চাদের স্কুল থেকেই দেশভক্তি শেখানো উচিত। এতদিন যে কুশিক্ষা শেখানো হয়েছিল, সেটার পরিবর্তন হওয়া দরকার।” পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সবথেকে বড় বিস্ফোরণটি তিনি ঘটিয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিয়ে। শান্তনুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অত্যন্ত বিশ্বস্ত’ বলে উল্লেখ করে দিলীপ বলেন, “এটা হতেই হত। এই তালিকায় আরও অনেকে আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে মোদীজির এটাই পার্থক্য যে মোদীজি নিজের নেতাদের কোটিপতি করতে পারেননি।” শান্তনুর গ্রেফতারিকে তিনি কেবল হিমশৈলের চূড়া বলে অভিহিত করেছেন।
তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের পর অবৈধ নির্মাণে ‘বুলডোজার’ চালানো নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। নওশাদ সিদ্দিকীর আইনি হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে দিলীপ ঘোষ সাফ জানান, “আমাদের পার্টি কথা দিয়েছিল, সেটা করে দেখাবে। প্রচুর কাজ পেন্ডিং আছে, কেউ তা আটকাতে পারবে না। আদালতের দরজা সবার জন্য খোলা আছে, কিন্তু কাজ থামবে না।” নতুন মন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরুর প্রসঙ্গে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন হবে এবং সমস্ত কেন্দ্রীয় যোজনা রাজ্যে কার্যকর করা হবে। প্রতিটি দপ্তরের বকেয়া কাজের সার্কুলার ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।





