১০ দিনের টানাপোড়েন শেষ, শরিকি চাপ না কি রাহুল গান্ধীর কৌশল? কেরালা কংগ্রেসের মসনদে বড় চমক

কেরল বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দীর্ঘ ১০ দিন পর অবশেষে কাটল কুয়াশা। জল্পনা, জল্পনা এবং দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভি.ডি. সতীশনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল কংগ্রেস হাইকমান্ড। বৃহস্পতিবার অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (AICC) সতীশনকে কেরল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছর দক্ষিণের এই শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন রাজ্যের প্রশাসনিক হাল থাকবে তাঁরই হাতে।

২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচনে কেরলে বাম দুর্গের পতন ঘটিয়ে ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (UDF) তথা কংগ্রেস জোটের প্রত্যাবর্তনের প্রধান কারিগর ছিলেন এই সতীশন। গত পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিধানসভায় লড়াই করেছেন তিনি। তাঁর কৌশলী নেতৃত্বেই এবার ইউডিএফ জোট দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১০২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের দীর্ঘ আলোচনার পর দলের পর্যবেক্ষক দীপা দাশমুন্সি বৃহস্পতিবার দুপুরে সতীশনের নামে চূড়ান্ত সিলমোহর দেন।

তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কংগ্রেস হাইকমান্ডের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। সূত্রের খবর, নবনির্বাচিত বিধায়কদের একটি বড় অংশের সমর্থন ছিল প্রভাবশালী নেতা কেসি বেণুগোপালের দিকে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে হাইকমান্ড সতীশনকেই বেছে নেয়। শেষ পর্যন্ত হাইকমান্ডের নির্দেশে বেণুগোপাল তাঁর দাবি প্রত্যাহার করে নিলে সতীশনের পথ পরিষ্কার হয়। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে থাকা আরেক হেভিওয়েট নেতা রমেশ চেন্নিথালাকে নতুন মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে খবর।

সতীশনের এই জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে জোট শরিকদের চাপ। ইউডিএফ-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল ‘মুসলিম লিগ’ শুরু থেকেই সতীশনের পক্ষে অনড় ছিল। এছাড়া ‘কেরল কংগ্রেস’, ‘আরএসপি’ এবং ‘কমিউনিস্ট মার্কসবাদী পার্টি’র মতো শরিক দলগুলো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, রাজ্যের মানুষের আবেগ সতীশনের সঙ্গেই রয়েছে। তারা সতর্ক করেছিল যে, বেণুগোপালের মতো দিল্লি-কেন্দ্রিক নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করলে উপনির্বাচনের বোঝা চাপতে পারে, যা ভোটারদের কাছে ভুল বার্তা দিতে পারে। মুলাপ্পালি রামচন্দ্রন এবং কে মুরলিধরণের মতো প্রবীণ নেতাদের সমর্থনও সতীশনের পাল্লা ভারী করেছে। অবশেষে কেরলে শুরু হতে চলেছে ‘সতীশন জমানা’।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy