রাজ্যের কৃষিজীবী মানুষের জন্য বড়সড় স্বস্তির বার্তা দিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষত আলু চাষি এবং আলু ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও সমস্যার সমাধানে নজিরবিহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন তিনি। বুধবার নবান্ন থেকে এক বিশেষ বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আলু চাষের ক্ষেত্রে পূর্বতন সরকারের তৈরি করা সমস্ত জটিলতা ও ‘যন্ত্রণা’র অবসান ঘটতে চলেছে আজ থেকেই।
আগের সরকারের ‘যন্ত্রণা’ শেষ: এদিন আলু চাষিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি পূর্বতন সরকারকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “বিগত সরকার আলু চাষি এবং ব্যবসায়ীদের ওপর যে ধরণের প্রশাসনিক চাপ এবং আর্থিক যন্ত্রণা চাপিয়ে দিয়েছিল, আমরা আজ থেকে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করলাম। চাষি তাঁর ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ব্যবসায়ীরা কোনো ভয় বা সিন্ডিকেটের চাপ ছাড়াই ব্যবসা করতে পারবেন।”
কী কী সুবিধা পাবেন চাষিরা? মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে দ্রুত কিছু রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, চাষিদের জন্য যে বিশেষ সুবিধাগুলি আসতে চলেছে সেগুলি হলো:
সরাসরি বিপণন: আলু বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যসত্ত্বভোগী বা ফড়েদের দাপট কমাতে সরাসরি সরকারি মাণ্ডিতে ফসল বিক্রির ব্যবস্থা আরও সহজ করা হবে।
হিমঘর সংক্রান্ত ছাড়: আলু মজুত রাখার ক্ষেত্রে হিমঘর মালিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর থাকা অহেতুক বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে পারে।
বীজ ও সারে ভর্তুকি: আলু চাষের খরচ কমাতে উন্নত মানের বীজ এবং সারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার।
কৃষক মহলে উন্মাদনা: মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর হুগলি, বর্ধমান এবং বাঁকুড়ার মতো আলু প্রধান জেলাগুলিতে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক চাষিরই অভিযোগ ছিল, গত কয়েক বছর ধরে আলুর বন্ড কেনাবেচা এবং কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির শিকার হতে হচ্ছিল তাঁদের। শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘অ্যাকশন মোড’ সেই সমস্যার সমাধানে বড় অস্ত্র হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রশাসনের তৎপরতা: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন যে, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নই হবে তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার। সেই কথা মাথায় রেখেই ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই আলু চাষিদের জন্য এই মেগা ঘোষণা করা হলো। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তৃণমূল স্তরে চাষিরা এই সুবিধার সুফল দ্রুত পেতে শুরু করেন।
ডেইলহান্ট (DailyHunt) বিশেষ প্রতিবেদন।





