বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভাবনীয় মোড়। দীর্ঘ টালবাহানা আর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিধানসভার আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রটিকেই নিজের ঘর হিসেবে বেছে নিলেন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি ছিল গোটা দেশের নজরকাড়া লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে তাঁকে পরাজিত করে এক অনন্য নজির গড়েছিলেন শুভেন্দু। জয়লাভের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ছিল, তিনি কোন আসনটি নিজের কাছে রাখবেন? একদিকে আবেগের নন্দীগ্রাম, অন্যদিকে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ভবানীপুর। আজ শপথ গ্রহণের পর শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি দক্ষিণ কলকাতার এই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কাজ করতে চান।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রটিকেই প্রতিনিধিত্ব করবেন। আজ প্রোটেম স্পিকারের কাছে শপথ নেওয়ার পর তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। নন্দীগ্রাম তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের মাটি হলেও, ভবানীপুরের জয়ী প্রার্থী হিসেবেই তিনি নবান্ন সামলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কৌশলী। ভবানীপুরের মতো ভিভিআইপি কেন্দ্র নিজের দখলে রেখে শুভেন্দু বিরোধী শিবিরের মনোবলে বড়সড় ধাক্কা দিতে চান। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো নির্বাচনী এলাকায় নিজের আধিপত্য আরও মজবুত করার সুযোগ পাবেন তিনি। তবে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তে কতটা খুশি হবেন, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও ঘনিষ্ঠ মহলে শুভেন্দু জানিয়েছেন, বিধায়ক পদে না থাকলেও নন্দীগ্রামের উন্নয়ন এবং মানুষের সাথে তাঁর সম্পর্ক আগের মতোই অটুট থাকবে। আপাতত ভবানীপুরের বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই শুরু হচ্ছে তাঁর নতুন ইনিংস।





