বাংলার খেলাধুলা মানেই কি শুধু ইডেন গার্ডেন্স আর ক্রিকেট? এই চিরাচরিত ধারণা এবার আমূল বদলে দিতে চাইছেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য হবে বাংলার হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া গৌরবকে পুনরুদ্ধার করা। ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, ভলিবল, সাঁতার থেকে শুরু করে কুস্তি—প্রতিটি বিভাগেই নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।
নিশীথ প্রামাণিকের মতে, শহরের চাকচিক্যে ঢাকা পড়ে যায় গ্রামের আসল হিরেগুলো। তিনি বলেন, “বাংলার গ্রামে গ্রামে এমন অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন যারা শুধুমাত্র সঠিক পরিকাঠামো এবং সুযোগের অভাবে অকালেই হারিয়ে যান। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই আমরা জেলাভিত্তিক ক্রীড়া উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছি।” মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যের অনেক স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান অবস্থা শোচনীয়। বছরের পর বছর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তাই পুরনো মাঠ ও স্টেডিয়াম সংস্কারের পাশাপাশি ব্লকে ব্লকে নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরির কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘ব্যাধি’ হিসেবে পরিচিত স্বজনপোষণ এবং পরিবারতন্ত্র নিয়েও এদিন কড়া বার্তা দিয়েছেন নিশীথ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, স্বচ্ছ প্রশাসন ছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নতি অসম্ভব। তিনি বলেন, “যোগ্য খেলোয়াড়দের বঞ্চিত করে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া চলবে না। আমাদের লক্ষ্য হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে যোগ্যদের জাতীয় মঞ্চে পৌঁছে দেওয়া।” এই লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার সাথে আলোচনা করে নতুন নীতি প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে উত্তরবঙ্গের ঝুলে থাকা বড় প্রকল্পগুলোর ওপর। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন নিউ কোচবিহারে রেলের জমিতে ২০০ কোটি টাকার ‘সেন্টার ফর এক্সেলেন্স’ তৈরির যে উদ্যোগ নিশীথ নিয়েছিলেন, তা আগের রাজ্য সরকারের অসহযোগিতায় থমকে গিয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। তবে নতুন দায়িত্বে এসে তিনি সেই প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। নিশীথের দাবি, এই কেন্দ্রটি তৈরি হলে উত্তরবঙ্গের ছেলেমেয়েরা বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। এছাড়া খেলো ইন্ডিয়া, স্কুল গেমস এবং ট্রাইবাল গেমসে বাংলার অংশগ্রহণ এবং সাফল্য বাড়ানোর জন্য বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করছে তাঁর দপ্তর। বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাতে বদ্ধপরিকর নতুন এই ক্রীড়ামন্ত্রী।





