মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) অফিসে চাঞ্চল্যকর ধর্মান্তরকরণ এবং যৌন হয়রানি মামলার জল এবার অনেক দূর গড়িয়েছে। এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে গোপনে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে এবার বড়সড় শাস্তির মুখে পড়লেন এআইএমআইএম (AIMIM) কাউন্সিলর আব্দুল মতিন প্যাটেল। বুধবার সকাল থেকেই ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের নারেগাঁও এলাকায় কাউন্সিলরের বাড়ি ও অফিসে প্রশাসনের বুলডোজার গর্জন শুরু হয়েছে।
নাসিক পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর দাবি, দেওলালি ক্যাম্প থানায় নিদা খানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকে তিনি বেপাত্তা ছিলেন। সেই সময় নারেগাঁওয়ের কাউসার পার্ক এলাকায় কাউন্সিলর মতিন প্যাটেল নিজের বাড়িতে নিদাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুরসভা। তদন্তে উঠে আসে যে, কাউন্সিলরের ওই বাড়ি ও অফিস ভবন বিধিমালা লঙ্ঘন করে তৈরি করা হয়েছে। তিন দিন আগে একটি নোটিশ জারি করার পর বুধবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
বুলডোজার অভিযান চলাকালীন যাতে কোনো আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য এলাকাটিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। অভিযানে মোতায়েন রয়েছেন একজন ডিসিপি, একজন এসিপি, ১১ জন পুলিশ পরিদর্শক সহ প্রায় ২০০ জন পুলিশ কর্মী। জানা গেছে, অভিযান শুরুর আগেই কাউন্সিলর তাঁর বাড়ি ও অফিস পুরোপুরি খালি করে দিয়েছিলেন। সোমবার থেকে আসবাবপত্র সরানোর কাজ চললেও বুধবার সকালেই মূল কাঠামোটি ভাঙার কাজ শুরু করে পুরসভা।
নাসিক টিসিএস কাণ্ডটি গত ২৬শে মার্চ প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন দেওলালি ক্যাম্প থানায় এক নারী কর্মী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে আরও আটজন নারী কর্মী মুখ খোলেন। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিদা খান একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। আমিষ খাবার খাওয়া, নামাজ পড়া এবং ইসলামিক ঐতিহ্য অনুযায়ী পোশাক পরার জন্য কর্মীদের জোর করা হতো বলে অভিযোগ। এমনকি কর্মীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার পাশাপাশি শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। কাউন্সিলর মতিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৪৯ ধারায় মামলা রুজু করেছে নাসিক পুলিশ। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে থাকা নিদা খানের পাশাপাশি কাউন্সিলরকেও দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই বুলডোজার অ্যাকশন নাসিকের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





