“রাজনৈতিক কচকচি অনেক হয়েছে, এবার মিষ্টিমুখ করুন”—বিধানসভায় হুমায়ুনের ‘সুইট ডিপ্লোম্যাসি’, তুঙ্গে জল্পনা

শ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অলিন্দে আজ দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। বুধবার শপথ গ্রহণের আগেই মিষ্টির হাঁড়ি হাতে বিধানসভায় হাজির হলেন নওদার নবনির্বাচিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তবে শুধু উপস্থিত হওয়াই নয়, রীতিমতো উৎসবের মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। তাঁর ঝুলি থেকে বেরোল মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত ৫০০ পিস ছানাবড়া এবং ১৫০ পিস মনোহরা। রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সকলকেই মিষ্টিমুখ করালেন তিনি।

এদিন বিধানসভায় পা রেখেই নাটকীয়ভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাঁধে হাত দিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন হুমায়ুন কবীর। নবগঠিত সরকারের প্রধানের সাথে তাঁর এই ঘনিষ্ঠতা এবং মুর্শিদাবাদের আরও তিন তৃণমূল বিধায়কের আলাদাভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় হুমায়ুনের গলায়। তিনি বলেন, “শুভেন্দু বাবু একজন ভালো মানুষ, উনি রাজ্যের জন্য ভালো কাজ করবেন।”

মিষ্টির ডালি নিয়ে আসার বিষয়ে নিজের চিরাচরিত ভঙ্গিতে হুমায়ুন বলেন, “মনোহরা হলো মনের আরাম, মনের প্রাণ। তাই তো এটা নিয়ে এলাম। রাজনৈতিক কচকচি অনেক হয়েছে, এবার একটু মিষ্টিমুখ করা দরকার। আমি চেয়েছিলাম আরও মনোহরা নিয়ে আসতে, কিন্তু জোগান কম থাকায় মাত্র ১৫০ পিস আনতে পেরেছি। তবে খামতি মেটাতে ৫০০ পিস ছানাবড়া এনেছি সবার জন্য।”

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের ভূমিকা ছিল নজরকাড়া। নিজের তৈরি নতুন দলের প্রার্থী হয়ে তিনি নিজে নওদা থেকে এবং তাঁর দলের অন্য এক প্রার্থী রেজিনগর থেকে জয়লাভ করেছেন। এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকে অনেক কিছু বলেছিলেন, আমি কিন্তু দল গড়ে দুটো আসনে জিতে দেখিয়ে দিয়েছি। আমি চাই নতুন সরকার ভালো করে কাজ করুক। রাজ্যের পরিস্থিতি যেন দারুণ থাকে, সাধারণ মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেটাই দেখতে বলব।”

অতীতের রাজনৈতিক সংঘাত এবং অপমান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা আবেগপ্রবণ শোনাল হুমায়ুনকে। তিনি বলেন, “ভোটের আগে অনেক অপমানিত হয়েছি। তবে আজ সেসব আর মনে রাখতে চাই না। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির লড়াইয়ের মাটি যে কতটা কঠিন, তা এবার মানুষ জেনে গিয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ নেওয়ার দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই ‘মিষ্টি সৌজন্য’ এবং সুসম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টা আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে নতুন কোনো মেরুকরণের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy