আমেরিকার চোখে ধুলো দিয়ে পাকিস্তানের ডাবল গেম! ট্রাম্পের দেওয়া মধ্যস্থতার সুযোগে ইরানি বিমান লুকিয়ে রাখার বিস্ফোরক তথ্য

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে এল। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তির জন্য পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারীর আসনে বসিয়েছিলেন, তখন পাকিস্তান পর্দার আড়ালে এক ভয়ংকর ‘ডাবল গেম’ খেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ (CBS News)-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন এবং স্যাটেলাইট চিত্র ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বে।

তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইসরায়েলি হামলা থেকে রক্ষা করতে ইরান তাদের যুদ্ধবিমানগুলো পাকিস্তানের ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছিল। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অছিলায় পাকিস্তান গোপনে ইরানের এই সামরিক সম্পদ রক্ষা করেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম সরাসরি পাকিস্তানকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে স্যাটেলাইট ছবি ও গোয়েন্দা রিপোর্ট অন্য কথা বলছে।

পর্দার আড়ালের দ্বিতীয় বড় তথ্যটি হলো ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, কাতার, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের সাথে তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান এই দেশগুলোর সাথে একের পর এক বৈঠককে এতদিন ইরান-মার্কিন চুক্তির অংশ হিসেবে প্রচার করে আসছিল। কিন্তু আসলে লক্ষ্য ছিল ইসলামিক দেশগুলোকে নিয়ে একটি নিজস্ব সামরিক জোট তৈরি করা। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন থানির মতে, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের যে কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করছে, তা রুখতে এই ‘ইসলামিক ন্যাটো’র কোনো বিকল্প নেই।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও পাকিস্তান আমেরিকাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে গোয়াদর বন্দর নিয়ে একটি বড় চুক্তি হয়েছে। এখন থেকে ইরান হরমুজ প্রণালীর বাইরে গোয়াদর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য ও জ্বালানি রপ্তানি করতে পারবে। এটি সরাসরি আমেরিকার বাণিজ্যিক ও সামরিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।

১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণে জর্জরিত পাকিস্তান এখন এই দেশগুলোর কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ সাহায্যের আশা করছে। ২০২৫ সালে সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের পারমাণবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার বিস্তার এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ঘটানোর পরিকল্পনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মার্কিন নিরাপত্তার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক ছত্রছায়ায় আসা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy