পুজো দিতে এসে শ্মশানপুরী মন্দির! ঝড়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল দেওয়াল, রক্তে ভিজল মহারাষ্ট্রের সাংলি

মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলায় এক ভয়ঙ্কর ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার জাঠ তহসিলের মোথেওয়াড়ি গ্রামের মারগুদেবী মন্দিরে দেওয়াল ও টিনের ছাউনি ভেঙে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬ জন পুণ্যার্থী। প্রকৃতির এই আকস্মিক তান্ডবে আহত হয়েছেন আরও ১২ থেকে ১৪ জন ভক্ত। পুজো দিতে এসে মুহূর্তের মধ্যে মন্দির চত্বর শ্মশানপুরীতে পরিণত হওয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।

কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতি মঙ্গলবার মারগুদেবী মন্দিরে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যখন প্রায় ৩৫০ জন ভক্ত মন্দির চত্বরে উপস্থিত ছিলেন, ঠিক তখনই আচমকা এলাকায় প্রবল ধূলিঝড় এবং ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে এবং মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বহু ভক্ত মন্দির চত্বরের একটি বড় দেওয়াল এবং টিনের ছাউনির নিচে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু প্রবল ঝড়ের ঝাপটা সহ্য করতে না পেরে জীর্ণ দেওয়াল ও টিনের কাঠামোটি হুড়মুড়িয়ে ভক্তদের ওপর ভেঙে পড়ে। চোখের পলকে কয়েক ডজন মানুষ বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান।

মৃতদের পরিচয় ও আহতদের অবস্থা
সাংলির পুলিশ সুপার তুষার দোশি জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন। নিহতরা হলেন— সঙ্গীতা রামগুন্ডা চৌধুরী (৩০), তাঁর বোন মঙ্গল ভাউসাহেব মোথে (৩২), তাঁদের বাবা শঙ্কর আবা লোকহান্ডে (৬০), দুই কিশোর অরুণ ও সোন্যা গেজাগে (উভয়ই ১৪), এবং প্রবীণ কোন্ডিবা রাউবা গেজাগে (৬৫)। পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে কয়েকজন প্রতিবেশী রাজ্য কর্ণাটকের বিজয়পুরা জেলার বাসিন্দা। আহত ১২-১৪ জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর ও প্রশাসনিক তদন্ত
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ পোস্ট করে জানানো হয়েছে যে, সাংলির এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মর্মাহত। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। প্রশ্ন উঠছে মন্দিরের পরিকাঠামো এবং নির্মাণের মান নিয়ে। ঝড়ের বেগ কতটা ছিল এবং আদৌও নির্মাণের কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ইঞ্জিনিয়াররা। মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, জেলা প্রশাসন তা খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। এই ঘটনায় গোটা মহারাষ্ট্র জুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy