পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের শিক্ষা দফতর এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। এবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে প্রার্থনার সময় জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে গাইতে হবে রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’। বুধবার থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে ইতিমধ্যেই এই মর্মে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা দফতরের কড়া নির্দেশিকা
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রতিদিনের স্কুল প্রার্থনায় জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম গাওয়া হচ্ছে কি না, তা স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন প্রার্থনা শেষে স্কুলগুলিকে শিক্ষা দফতরে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে যে নিয়মটি যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে কি না। মঙ্গলবার রাতেই প্রধান শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এই নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন তৃণমূল সরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটিকে রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং স্কুলগুলিতে তা বাধ্যতামূলকভাবে গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করলেও, রাজ্য সঙ্গীত আর গাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো নির্দেশিকা দেয়নি। ফলে আপাতত স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের প্রার্থনার সময় জাতীয় সংগীত, রাষ্ট্রীয় গীত এবং রাজ্য সঙ্গীত—তিনটিই গাইতে হবে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খুব শীঘ্রই রাজ্য সঙ্গীত নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নয়া নীতি
জাতীয় সংহতি ও ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বন্দে মাতরম নিয়ে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেখানে বলা হয়েছে, এখন থেকে বন্দে মাতরমের সমস্ত (৬টি) স্তবকই গাইতে হবে। এছাড়া, বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় উপস্থিত শ্রোতাদের উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক প্রস্তাবে ‘জনগণমন’ এবং ‘বন্দে মাতরম’-কে সমমর্যাদা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদি কোনো অনুষ্ঠানে দুটি গানই গাওয়া হয়, তবে প্রোটোকল অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’ আগে গাইতে হবে। বাংলার শিক্ষা দফতরের এই নতুন পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের সেই দেশাত্মবোধক ভাবনাকেই ত্বরান্বিত করল বলে মনে করা হচ্ছে।





