দক্ষিণী রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেই অগ্নিপরীক্ষার মুখে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়। বহু টানাপড়েনের পর তামিলনাড়ুর কুর্সি হাতে এলেও, বুধবার বিধানসভায় আস্থাভোটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁর দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজগম’ (TVK)-কে। তবে কেবল বিজয় নন, অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে রাজ্যের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে-ও।
সংখ্যার খেলায় দুশ্চিন্তায় বিজয়: তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজয়ের টিভিকে। কিন্তু ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে আরও ১০টি আসনের প্রয়োজন ছিল। কংগ্রেস, বাম দল এবং ভিসিকে-র সমর্থনে বর্তমানে বিজয়ের পক্ষে রয়েছেন ১২০ জন বিধায়ক। সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে মাত্র ২ জন বেশি! এই সামান্য ব্যবধানই বিজয়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
আদালতের নির্দেশে ধাক্কা: আস্থাভোটের ঠিক আগেই ধাক্কা খেয়েছেন টিভিকে বিধায়ক শ্রীনিবাস সেতুপতি। গত নির্বাচনে মাত্র ১ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। সেই জয়কে চ্যালেঞ্জ করে পরাজিত ডিএমকে প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ায়, আদালতের নির্দেশে আজ ভোট দিতে পারবেন না শ্রীনিবাস। অন্যদিকে, এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে এই আস্থাভোটে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এআইএডিএমকে-তে ভাঙনের সুর: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে ই পালানিস্বামীর শিবিরে। দলের নির্দেশ অমান্য করে সি ভি সন্মুগমের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন, মহারাষ্ট্রে শিবসেনা বা এনসিপি-র মতো এখানেও আড়াআড়ি ভাঙন দেখা দিতে পারে। শোনা যাচ্ছে, এস পি ভেলুমণি ও সি ভি সন্মুগম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে বিজয়ের সরকারকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণের ছক কষছে দিল্লি। যদিও বিদ্রোহী অংশটির দাবি, তাঁরা কেবল দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থেই সরকারের পাশে থাকতে চান।
জ্যোতিষী বিতর্কে বিদ্ধ মুখ্যমন্ত্রী: সরকার টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের মাঝেই নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন বিজয় স্বয়ং। নিজের ‘অফিসার-অন-ডিউটি’ (পলিটিক্যাল) পদে জ্যোতিষী রিকি রাধান পণ্ডিতকে নিয়োগ করেছেন তিনি। আর তাতেই ফুঁসছে বাম ও কংগ্রেসের মতো জোটসঙ্গীরা। সিপিএম ও কংগ্রেসের সাফ কথা, একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা হিসেবে একজন জ্যোতিষীর নিয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আজকের এই আস্থাভোট কেবল বিজয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ রাজনীতির সমীকরণও বদলে দিতে পারে। এখন দেখার, ‘থালাপতি’ তাঁর রাজনৈতিক সিনেমার এই ক্লাইম্যাক্সে শেষ হাসি হাসতে পারেন কি না।





