রাজ্যের কুর্সি হাতছাড়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম দলের ‘ডিজিটাল যোদ্ধাদের’ সঙ্গে বৈঠকে বসে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, “আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে।” এই হারের নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি।
মঙ্গলবার তৃণমূলের আইটি সেলের কর্মীদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দলের অন্দরে যখন বিদ্রোহের সুর চড়ছে, ঠিক তখনই কোমর বেঁধে নামার বার্তা দিলেন নেত্রী।
আইটি সেলে বড় রদবদল সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে দলের ডিজিটাল উইং বা আইটি সেলে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন দেবাংশু ভট্টাচার্য এই সেলের ইনচার্জ থাকলেও, এবার সেই পদ তুলে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে ৬ জনের একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে দেবাংশু ভট্টাচার্য ছাড়াও রয়েছেন উপাসনা চৌধুরী ও তথাগত ভট্টাচার্যের মতো তরুণ মুখেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরোধীদের পালটা জবাব দিতেই এই ‘নতুন টিম’ গঠন বলে মনে করা হচ্ছে।
সততা ও পরিশ্রমে জোর দলের দুর্দিনে যাঁরা মুখ ঘুরিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা দলের প্রতি একনিষ্ঠ এবং সৎ, কেবল তাঁদেরই জায়গা থাকবে তৃণমূলের আগামীর লড়াইয়ে। কঠোর পরিশ্রমীদের আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
অভিষেকের ‘ভোকাল টনিক’ ও জোট রাজনীতি এদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি দলীয় কর্মীদের জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, দল এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
সাংসদদের নিয়ে জরুরি তলব তৃণমূলের ভরাডুবির পর একের পর এক নেতা যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা আই-প্যাকের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, তখন ঘর গোছাতে মরিয়া মমতা। আগামীকালই কলকাতার বাসভবনে দলের সব নবনির্বাচিত ও বর্তমান সাংসদদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। এছাড়া শুক্রবার দলের সব প্রার্থীদের নিয়েও বসার কথা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে দানা বাঁধা অসন্তোষ প্রশমিত করতেই এই ঘন ঘন বৈঠক ডাকছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।





