তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যু, গ্রেফতার মালিক! আমাজনের দাপুটে কোম্পানির আড়ালে কি মৃত্যুকূপ চালাতেন নিসার?

কলকাতার তিলজলা থানা এলাকার তপসিয়ার মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিল। পাঁচতলা বাড়ির ওপর তলায় চলা অবৈধ কারখানার মালিক জাফার নিসারকে আজ, বুধবার সকালেই পাম অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গত মঙ্গলবার তপসিয়ার ৫/১-ডি/১ গুলাম জিলানী রোডের কারখানায় ভয়াবহ আগুনে মৃত্যু হয়েছে দুই শ্রমিকের। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, আরও তিনজন বর্তমানে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাড়োয়ার গৌর সর্দার এবং তিলজলার মহম্মদ ইব্রারকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁদের শরীর আগুনে পুরোপুরি পুড়ে না গেলেও, আগুনের তীব্র তাপে চামড়া ঝলসে গিয়েছে এবং কারখানার জানলা-দরজা বন্ধ থাকায় বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ফুসফুসে ঢুকে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটিয়েছে। দুজনের অবস্থাই অত্যন্ত সঙ্কটজনক। অন্যদিকে, তানভির নামে আরও এক যুবক পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন, তাঁর পিঠের অংশ ঝলসে গেলেও বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল।

তদন্তে নেমে পুলিশের সামনে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। ‘ডেল্টা লেদার কর্পোরেশন’ নামক এই সংস্থাটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ছিল। আমাজন গ্লোবালের মতো বড় প্ল্যাটফর্মে এদের তৈরি চামড়াজাত পণ্য সরাসরি বিদেশের বাজারে বিক্রি হতো। কিন্তু বিদেশের বাজারে দাপট দেখালেও, কারখানার ভেতরের পরিবেশ ছিল নারকীয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দরজা-জানলা বন্ধ করে কাজ করানো হতো শ্রমিকদের দিয়ে। এমনকি কারখানায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকা সত্ত্বেও, শর্ট সার্কিটের পর অন্ধকার আর ঘন ধোঁয়ার কারণে শ্রমিকরা সেই যন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারেননি।

২০০৬ সালে রেজিস্টার্ড হওয়া এই কোম্পানিটি বাবা ও দুই ছেলের পার্টনারশিপে চলত। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই ঘিঞ্জি এলাকায় কারখানাটি চললেও যথাযথ নিরাপত্তা বিধি মানা হতো না। রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং ইলেকট্রিক তারের জঞ্জাল থাকায় দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছাতেও কালঘাম ছুটে গিয়েছিল উদ্ধারকারীদের। ঘটনার পর থেকেই মালিক মহম্মদ নিসার আহমেদ পলাতক ছিলেন, অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। তাদের আদৌ ফায়ার লাইসেন্স ছিল কি না, তা নিয়ে দমকলের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy