২০১৪ সালে বিজেপি যখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছিল, তখন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের মূল স্লোগান ছিল ‘কংগ্রেস-মুক্ত ভারত’। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বদলেছে রাজনীতির সমীকরণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে, বিজেপি এখন আর কেবল কংগ্রেসকে মুছে ফেলার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং ডিএমকে (DMK)-র মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোকে তাদের নিজেদের গড়ে পরাজিত করে এক নতুন লক্ষ্যপূরণের পথে এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর ফলাফল বিজেপি-র কাছে একটি বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক দশকেরও বেশি সময়ের শাসনকে হটিয়ে পদ্ম শিবিরের এই উত্থান কেবল একটি রাজ্যের পালাবদল নয়, বরং ভারতের রাজনীতিতে ‘আঞ্চলিক অস্মিতা’ বনাম ‘জাতীয়তাবাদ’-এর লড়াইয়ে দিল্লির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত।
বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো— এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে কোনো শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি জাতীয় স্বার্থে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তৃণমূলের পরাজয় এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-র পিছু হঠা প্রমাণ করছে যে, বিজেপি কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক ‘হেজেমনি’ বা একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তুলতে চাইছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতার কথায়, “কংগ্রেস এখন অপ্রাসঙ্গিক। আমাদের লড়াই এখন সেই সব আঞ্চলিক দলগুলোর সাথে, যারা রাজ্য রাজনীতির আবেগকে ব্যবহার করে জাতীয় উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।” অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর এই লড়াই আসলে ছিল বিজেপি-র সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যেখানে তারা তৃণমূল বা ডিএমকে-র মতো দলগুলোকে কোণঠাসা করে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছিল।
এই জয়ের পর বিজেপি-র পরবর্তী পদক্ষেপ হবে সেই সব রাজ্যে শক্তি বাড়ানো যেখানে এখনও আঞ্চলিক দলগুলো রাজত্ব করছে। ২০২৬-এর এই ‘মহাসংগ্রাম’ ভারতের মানচিত্র থেকে কেবল একটি দলকে নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতির পুরনো ধ্যানধারণাকেই মুছে ফেলার পথে এক বড় ধাপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





