বর্তমানের সুপার-ফাস্ট লাইফস্টাইলে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে ‘ওটস’ এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ডায়েট হোক বা চটজলদি ব্রেকফাস্ট— ওটসের ওপর আমরা অন্ধভাবে ভরসা করি। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে খাবারটিকে আপনি মেদ ঝরানোর অব্যর্থ ওষুধ মনে করছেন, সেটিই আসলে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে? সাম্প্রতিক গবেষণায় পুষ্টিবিদরা ওটস খাওয়া নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন।
ওজন কমছে না কেন? অনেকেই অভিযোগ করেন, নিয়ম করে ওটস খেয়েও ওজন কমছে না। পুষ্টিবিদদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো ‘ইনস্ট্যান্ট ওটস’ বা ‘ফ্লেভারড ওটস’। বাজারচলতি প্যাকেটজাত ওটসে প্রচুর পরিমাণে চিনি, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম স্বাদ মেশানো থাকে। ফলে ক্যালোরি কমার বদলে শরীরের ওপর বাড়তি শর্করার চাপ পড়ে। এর সঙ্গে দুধ বা চিনি যোগ করলে তা আর ডায়েট খাবার থাকে না।
সুগার ও কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকলেও এর ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ (GI) নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে যারা ইনস্ট্যান্ট ওটস খান, তাঁদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট খুব দ্রুত ভেঙে চিনিতে রূপান্তরিত হয়। এতে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত ওটস খেলে শরীরে ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, যা খনিজ শোষণে বাধা দেয়।
পুষ্টিবিদদের বিশেষ পরামর্শ: ব্রেকফাস্টে ওটস খেয়ে আসল সুফল পেতে চাইলে মেনে চলুন এই ৩টি টিপস:
ইনস্ট্যান্ট ওটস এড়িয়ে চলুন: এর পরিবর্তে ‘স্টিল কাট ওটস’ বা ‘রোলড ওটস’ বেছে নিন। এগুলো রান্না করতে সময় লাগলেও এতে পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।
চিনি বর্জন করুন: মিষ্টির জন্য চিনি বা মধুর বদলে তাজা ফল বা বেরি ব্যবহার করুন।
প্রোটিনের ভারসাম্য: শুধু ওটস না খেয়ে এর সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ বা এক মুঠো আমন্ড যোগ করুন। এতে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকবে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সঠিক নিয়ম না জানলে অমৃতও বিষে পরিণত হতে পারে। তাই ওটস খাওয়ার আগে আপনার শরীরের প্রয়োজন এবং ওটসের ধরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সুস্থ থাকতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ব্রেকফাস্টের ধরণ।





