প্রাচীনকাল থেকেই বলা হয়, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’। আর সেই মেরুদণ্ড তৈরির মূল কারিগর হলেন শিক্ষক। কিন্তু আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকের সেই পবিত্র সম্পর্কে কি কিছুটা মরিচা ধরছে? শিক্ষক মানেই কি শুধু ভয় আর শাসনের আড়ালে থাকা কোনো গম্ভীর চরিত্র? নাকি তিনি হবেন একজন প্রকৃত পথপ্রদর্শক? এই বিষয়ে ইটিভি ভারতের পক্ষ থেকে আমরা কথা বলেছিলাম বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সঙ্গে। শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের কয়েকটি বিশেষ দিক এখানে তুলে ধরা হলো।
সহযোগিতাই সম্পর্কের ভিত্তি শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্ক এখন আর একমুখী হওয়া উচিত নয়। শিক্ষক কেবল মঞ্চে দাঁড়িয়ে জ্ঞান বিতরণ করবেন আর ছাত্ররা মাথা নিচু করে তা গ্রহণ করবে— এই ধারণা এখন সেকেলে। বর্তমান যুগে সম্পর্ক হওয়া উচিত সহযোগিতামূলক। যেখানে শিক্ষক পাঠ্যবইয়ের বাইরেও ছাত্রদের জীবনবোধের শিক্ষা দেবেন।
একসাথে জ্ঞান সৃষ্টি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক হবেন একজন ‘ফ্যাসিলিটেটর’ বা সহায়ক। তিনি শুধু তথ্য দেবেন না, বরং ছাত্রদের সঙ্গে মিলে নতুন কোনো ভাবনা বা জ্ঞান সৃষ্টি করবেন। এতে ছাত্রদের মধ্যে সৃজনশীলতা বাড়বে এবং পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।
খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ ভয়মুক্ত পরিবেশই ভালো ছাত্র তৈরির চাবিকাঠি। শ্রেণিকক্ষে এমন পরিবেশ থাকা জরুরি যেখানে একজন ছাত্র নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারে। শিক্ষক যখন বন্ধুর মতো কোনো জটিল বিষয় সহজ করে বুঝিয়ে দেন, তখন ছাত্রের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা বন্ধুত্বের অর্থ এই নয় যে শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে কোনো সীমারেখা থাকবে না। সহযোগিতামূলক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা। ছাত্র যেমন শিক্ষককে সম্মান করবে, তেমনই শিক্ষককেও ছাত্রের ব্যক্তিগত মেধা ও চিন্তাভাবনার গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিশেষে: শিক্ষক কেবল ক্লাসরুমের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ থাকা কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একজন মেন্টর। আজকের ডিজিটাল যুগে যেখানে তথ্যের অভাব নেই, সেখানে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য একজন শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে গভীর আত্মিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। তবেই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য সফল হবে।





