অপরাধ করে পার পাওয়া যে এখন আর সহজ নয়, তা ফের প্রমাণ করে দিল পুলিশ। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত রাজ সিং-কে গ্রেফতার করার পর উঠে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কোনো সিসিটিভি বা প্রত্যক্ষদর্শী নয়, বরং একটি ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI) লেনদেনের সূত্র ধরেই ঘাতকের হদিশ পেয়েছে পুলিশ।
ডিজিটাল ট্র্যাপে পা: তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, অপরাধ করার পর পালানোর সময় রাজ সিং একটি জায়গায় ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা লেনদেন করেছিল। সেই ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনুসরণ করেই পুলিশ তার সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে এবং ওত পেতে তাকে পাকড়াও করে। আধুনিক প্রযুক্তির এই ব্যবহারই চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলার জট খুলে দিল নিমেষেই।
পুরনো পাপী রাজ সিং: গ্রেফতারের পর রাজ সিং-এর অতীত ঘাঁটতে গিয়ে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। জানা গিয়েছে, রাজ কোনো সাধারণ অপরাধী নয়; তার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় ১২টিরও বেশি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। চুরি, ছিনতাই থেকে শুরু করে তোলাবাজি— অপরাধের দুনিয়ায় রাজ সিং এক পরিচিত নাম। এতগুলো মামলা থাকা সত্ত্বেও সে কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এবং চন্দ্রনাথের মতো ব্যক্তিকে টার্গেট করল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তদন্তে আর কী মিলল? পুলিশ সূত্রের খবর, চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার নেপথ্যে কোনো পুরনো শত্রুতা নাকি পেশাদার সুপারি কিলিং ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ সিং-কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুরোদস্তুর জেরা শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো মাথা বা প্রভাবশালী চক্র জড়িত আছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
চাঞ্চল্য এলাকায়: চন্দ্রনাথ রথের মতো একজন ব্যক্তিত্বের এমন মর্মান্তিক পরিণতির পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছিল তুঙ্গে। রাজ সিং-এর মতো একজন দাগি অপরাধী ধরা পড়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, অপরাধীদের দাপট নিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
পুলিশের দাবি, খুব শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ মোটিভ এবং রাজ সিং-এর সহযোগীদের নাম সামনে আনা সম্ভব হবে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে অপরাধ করে পালানো যে অসম্ভব, ঘাতক রাজ সিং-এর গ্রেফতারি যেন সেই বার্তাই দিল।





