পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক সম্পন্ন হলো। আর প্রথম বৈঠকেই রাজ্যের ভোল বদলে দিতে ৬টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া সিদ্ধান্ত নিল নবগঠিত সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হলো একটি ‘নতুন বাংলা’ গড়ে তোলা, যেখানে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা হবে সবার আগে।
আয়ুষ্মান ভারত ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রত্যাবর্তন
শুভেন্দু ক্যাবিনেটের সবচেয়ে বড় চমক হলো কেন্দ্রের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ রাজ্যে অবিলম্বে কার্যকর করা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এতদিন বাংলার মানুষ যে কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তা এখন প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে। এর পাশাপাশি, গত কয়েক বছর ধরে আমলাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ও ডেপুটেশনের ক্ষেত্রে যে বাধা ছিল, তাও সরিয়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ, এখন থেকে দিল্লির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামো।
সীমান্ত সুরক্ষা ও বিএসএফ-কে জমি দান
জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে বিএসএফ-কে (BSF) জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্যাবিনেট এই কাজের জন্য মাত্র ৪৫ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, “দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।”
কর্মসংস্থান ও থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া
রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় সুখবর শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৫ সাল থেকে আটকে থাকা সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্যাবিনেটে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, গত কয়েক বছরে রাজ্যে বড় কোনও নিয়োগ হয়নি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শীঘ্রই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর
আইনি ক্ষেত্রেও বড় বদল আনল নতুন সরকার। কেন্দ্রীয় আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে পুরোপুরি কার্যকর করা হলো। এখন থেকে রাজ্যে সমস্ত নতুন মামলা এই আইনের অধীনেই নথিভুক্ত হবে। এ ছাড়াও, রাজ্যে হিংসামুক্ত নির্বাচন করানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে ক্যাবিনেট।
শহিদ কর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদন
বৈঠকের শুরুতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের লড়াইয়ে প্রাণ হারানো ৩২১ জন কর্মীর স্মৃতির উদ্দেশে ক্যাবিনেটে নীরবতা পালন করা হয়। শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন, এই কর্মীদের আত্মবলিদান বৃথা যাবে না এবং তাঁদের পরিবারকে সব রকম বিচার ও সাহায্য প্রদান করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ৬টি সিদ্ধান্ত আসলে বাংলার প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক বিশাল বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।





