পাকিস্তানের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিরাট মিথ্যাচার ফাঁস! মার্কিন নথিতে আসিম মুনিরের চরম বেইজ্জতি

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ফাঁপা আস্ফালন এবং ডাহা মিথ্যা দাবি আবারও বিশ্ব দরবারে ফাঁস হয়ে গেল। ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানকে যে ক্ষত দিয়েছিল, সেই আঘাত থেকে ইসলামাবাদ আজও সেরে উঠতে পারেনি। কিন্তু নিজেদের মুখরক্ষা করতে আসিম মুনির সম্প্রতি এক কাল্পনিক দাবি করেছেন। মুনিরের দাবি ছিল, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত নাকি যুদ্ধবিরতির জন্য আমেরিকার কাছে হাত পেতেছিল এবং পাকিস্তান মহানুভবতা দেখিয়ে তা মেনে নেয়। কিন্তু একটি সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন (FARA) মুনিরের এই দাবিকে কেবল মিথ্যাই নয়, বরং হাস্যকর বলে প্রমাণিত করেছে।

৪ দিনে ৬০ বার সাহায্যের আকুতি
মার্কিন নথিপত্রের (FARA) চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুসারে, ৬ থেকে ৯ মে, ২০২৫—এই চার দিন যখন ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালাচ্ছিল, তখন ভারতের ভয়ে রীতিমতো কাঁপছিল পাকিস্তান। নথিতে দেখা যাচ্ছে, এই চার দিনের মধ্যে পাকিস্তান ওয়াশিংটনে মার্কিন আইনপ্রণেতা, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা, অর্থ মন্ত্রক এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের কাছে অন্তত ৬০ বার সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করেছিল। ইসলামাবাদ মরিয়া হয়ে উঠেছিল যেন আমেরিকা হস্তক্ষেপ করে ভারতের এই বিধ্বংসী অপারেশন বন্ধ করে।

ইসলামাবাদের ‘সাহায্য ভিক্ষা’
৬ মে রাতে ভারতের প্রত্যাঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ৩০টি জরুরি বার্তা পাঠান। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মার্কিন কংগ্রেস ও সিনেটের শীর্ষ নেতা যেমন হাকিম জেফরিজ, জন থুন এবং চাক শুমারদের সঙ্গে তড়িঘড়ি বৈঠকের জন্য আরজি জানান। নথিতে স্পষ্ট যে, পাকিস্তান বারবার ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা’ কমানোর দোহাই দিয়ে ভারতকে থামানোর চেষ্টা করছিল। সবচেয়ে তীব্র তৎপরতা দেখা গিয়েছিল ৯ মে, যেদিন পাকিস্তান অন্তত ২৫টি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত জরুরি ফোনকল করে।

ভারতের অনড় অবস্থান
আসিম মুনিরের দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির জন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ভারত চায়নি। পাকিস্তানই ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO)-এর মাধ্যমে হটলাইনে ভারতকে বার্তা পাঠিয়ে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল। মার্কিন নথিতে ভারতের কোনো প্রকার লবিং বা সাহায্যের আরজি লিপিবদ্ধ নেই। ভারতের পুরো মনোযোগ ছিল পাহালগাম হামলার প্রতিবাদে যোগ্য জবাব দেওয়া এবং কূটনৈতিকভাবে বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদকে তুলে ধরা। আসিম মুনিরের এই মিথ্যাচার আসলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজেদের হৃত গৌরব ফিরে পাওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy