লোকসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্য বনাম কেন্দ্র সংঘাতের নতুন ইস্যু সামনে আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারকে সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ শানিয়ে এবার রাজ্যে কেন্দ্রীয় আইন এবং জনগণনা (Census) চালুর দাবিতে সুর চড়ালেন তিনি। শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে এখন উত্তাল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র তোপ: এদিন একটি সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্য সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং আইনগুলিকে বাংলায় কার্যকর হতে দিচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের নতুন দণ্ডসংহিতা বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং দেশজুড়ে জনগণনার যে প্রক্রিয়া, তা রুখে দিয়ে দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করছে বর্তমান শাসক দল।
কী করতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা? শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সহযোগিতা না করলে তাঁরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করার জন্য তিনি যেমন আইনি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবেন, তেমনই কেন্দ্রীয় স্তরে তদ্বির করবেন যাতে দ্রুত জনগণনার কাজ শুরু করা যায়। তাঁর মতে, অনুপ্রবেশ রুখতে এবং প্রকৃত নাগরিকদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাতের নতুন মোড়: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ সরাসরি নবান্নের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সমতুল্য। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার কেন্দ্রীয় ‘হস্তক্ষেপ’-এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, সেখানে শুভেন্দুর এই ‘বিকল্প’ বা ‘সমান্তরাল’ সক্রিয়তা সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং সিএএ (CAA) ইস্যু নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তপ্ত, তখন শুভেন্দুর এই জনগণনার দাবি নতুন মাত্রা যোগ করল।
পাল্টা জবাব তৃণমূলের: শুভেন্দুর এই আক্রমণকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসক শিবির। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বাংলায় কোন আইন চলবে আর কোন প্রক্রিয়ায় কাজ হবে, তা ঠিক করবে নির্বাচিত রাজ্য সরকার। দিল্লির অঙ্গুলিহেলনে বাংলাকে অস্থির করার চেষ্টা সফল হবে না বলেই মনে করছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্য সামনে রেখে শুভেন্দু অধিকারী যে এখন থেকেই ‘বোল্ড’ খেলায় নেমেছেন, তা তাঁর এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি থেকেই স্পষ্ট। এখন দেখার, শুভেন্দুর এই বার্তার পর নবান্ন তথা তৃণমূল ভবন থেকে কী পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।





