আগামী কয়েক মাস ঠাসা কর্মসূচি অজি ব্রিগেডের। চলতি মাসের শেষে পাকিস্তান এবং আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরের জন্য সোমবার জোড়া দল ঘোষণা করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সাদা বলের এই গুরুত্বপূর্ণ দুই সিরিজের জন্য ছ’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এমন এক রণকৌশল নিয়েছে, যা ক্রিকেট মহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অজুহাতে বাদ রাখা হয়েছে দলের তিন প্রধান স্তম্ভ—প্যাট কামিন্স, জোশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্ককে।
তরুণদের জয়জয়কার ও নতুন মুখ:
আসন্ন পাকিস্তান সফরের জন্য লিয়াম স্কট এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ওলি পিককে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক দিয়েছেন নির্বাচকরা। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সফরের টি-২০ স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন আনকোরা ব্যাটার জোয়েল ডেভিয়েস। নির্বাচক কমিটির প্রধান জর্জ বেইলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী বছরের ওডিআই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই তরুণদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বেইলির কথায়, “অভিজ্ঞ ও নতুনের সংমিশ্রণ উপমহাদেশের কন্ডিশনের জন্য আদর্শ।”
আইপিএল ও পিএসএল ফ্যাক্টর:
বর্তমানে আইপিএলে ব্যস্ত থাকা ট্রাভিস হেড, কুপার কনোলি, বেন ডুয়ার্শুইস এবং জেভিয়ার বার্টলেটরা সরাসরি বাংলাদেশ সফরে যোগ দেবেন। নিজ নিজ ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার পরেই তাঁরা লাল-সবুজ দেশে পা রাখবেন। তবে সবথেকে বড় আলোচনা শুরু হয়েছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও অজি নির্বাচকদের মন জয়ে ব্যর্থ তিনি। ফলে বাংলাদেশ সফরের টি-২০ স্কোয়াডে তাঁর জায়গা হয়নি। অন্যদিকে, পিএসএল চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমির হয়ে দুরন্ত পারফর্ম করে অ্যারন হার্ডি জায়গা করে নিয়েছেন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের দলে।
নেতৃত্বে মার্শ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—দুই সফরের জন্যই সাদা বলের ক্রিকেটে অজিদের নেতৃত্ব দেবেন মিচেল মার্শ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অন্দরের খবর, আগস্ট মাসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) অন্তর্গত দুটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। তার আগে কামিন্স-স্টার্কদের ফ্রেশ রাখতেই এই বিশ্রাম। মূলত নতুনদের পরখ করে নেওয়া এবং বিশ্বকাপের পাইপলাইন তৈরি করাই এখন ক্যাঙারু ব্রিগেডের মূল লক্ষ্য।





