এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ টালবাহানা আর টানটান রাজনৈতিক লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে নিজের প্রথম কর্মদিবস শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্নের অলিন্দে ছিল সাজ সাজ রব। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রশাসনিক স্তরে কোনও খামতি রাখা হয়নি। নবান্নের উত্তর গেটে পৌঁছানো মাত্রই তাঁকে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে রাজকীয় ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মেজাজে অভিবাদন গ্রহণ করে লিফটে করে সরাসরি ১৪ তলায় নিজের দপ্তরে পৌঁছে যান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই কালবিলম্ব না করে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক ডাকেন। নবান্নের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সকল সদস্য। সূত্রের খবর, এই প্রথম বৈঠকেই একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো এবং বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও, আগের সরকারের চালু থাকা প্রকল্পগুলি খতিয়ে দেখে সেগুলিকে আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সবথেকে বেশি জল্পনা ছিল কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ‘কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্প নিয়ে। ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, রাজ্য এবার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পথে হাঁটতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়াই হবে এই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং লাল ফিতের ফাঁসে যাতে কোনও কাজ আটকে না থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে। আজকের এই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।





