পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মহাকরণ বা নবান্নে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার আগে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে সল্টলেকে অবস্থিত বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে রাজকীয় সংবর্ধনা জানানো হয়। তবে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সবথেকে নজরকাড়া এবং আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশ্যে পুষ্পবৃষ্টি করে তাঁদের বিশেষ সম্মান জ্ঞাপন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কাজ শুরু করার আগে শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ আসলে ‘নারীশক্তির’ প্রতি তাঁর সরকারের দায়বদ্ধতারই এক জোরালো বার্তা।
এদিন সকাল থেকেই সল্টলেক বিজেপি অফিসের সামনে ছিল উৎসবের মেজাজ। কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকের ভিড় আর জয়ধ্বনি সংবলিত স্লোগানের মাঝেই সেখানে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তরীয় এবং পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তবে অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই পুষ্পপাত্র তুলে নেন এবং সেখানে উপস্থিত মহিলা সমর্থকদের ওপর ফুল ছড়িয়ে দিয়ে তাঁদের আশীর্বাদ ও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “বাংলার মা-বোনেদের আশীর্বাদই এই জয়ের আসল চাবিকাঠি। তাঁদের সুরক্ষা এবং সম্মান রক্ষাই আমার সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হবে।”
বিজেপি দপ্তরে আয়োজিত এই সংবর্ধনা সভার পর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখানে মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে। তবে নবান্নে যাওয়ার আগে দলীয় কর্মীদের উৎসাহ এবং মহিলাদের প্রতি তাঁর এই বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোর পাল্টা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী নতুন কোনো বড় ঘোষণা করতে পারেন। আজকের এই পুষ্পবৃষ্টি এবং মহিলাদের বিশেষ সম্মান সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অংশ। সল্টলেকের এই অনুষ্ঠান শেষে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুখ্যমন্ত্রী নবান্নের পথে রওনা দিয়েছেন। নতুন সরকারের ‘ফার্স্ট ডে’ অ্যাকশন এখন ঠিক কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





