ভারতীয় শেয়ার বাজারে সোমবার শুরুতেই বড়সড় বিপর্যয় নেমে এল। সপ্তাহ শুরুর সকালেই রক্তিম দালাল স্ট্রিট। সেনসেক্স এবং নিফটি—উভয় সূচকই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। সেনসেক্স ৯০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়ে ৭৮,২০০ স্তরের নিচে নেমে গিয়েছে। অন্যদিকে, নিফটি ১.২% বা প্রায় ২৯০ পয়েন্ট হারিয়ে ২৩,৮০০-এর কাছাকাছি লেনদেন করছে। বাজার খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই লগ্নিকারীদের কোটি কোটি টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে।
মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশচুম্বী দাম এই পতনের প্রধান কারণ। সেশন শুরু হতেই বিএসই-র ৩০টি শেয়ারের সংবেদনশীল সূচক সেনসেক্স ৬৯০ পয়েন্ট পড়ে ৭৬,৬৩৮-এ খোলে। নিফটিও ২০৬ পয়েন্ট কমে ২৩,৯৭০-এ যাত্রা শুরু করেছিল, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় রুপির পতনও উদ্বেগ বাড়িয়েছে; প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ৯৫.৬২-এর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
বাজারের এই ধসের নেপথ্যে রয়েছে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ১০৪ ডলার গণ্ডি পার করা। তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এটি বড় ধাক্কা। হরমুজ প্রণালী অবরোধের আশঙ্কা এবং বিশ্বজুড়ে তেলের জোগান কমে যাওয়ার খবরে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই অস্থিরতার সুযোগে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে সোনা বা ডলারের মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করছেন।
এশীয় বাজারগুলিতেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গিয়েছে। জাপানের নিক্কেই কিছুটা বাড়লেও অস্ট্রেলিয়ার বাজার নিম্নমুখী। আমেরিকার ফিউচার মার্কেটও সোমবার সকালে পতনের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম যদি এভাবেই বাড়তে থাকে তবে মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়বে। এমতাবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হয়ে পা ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।





