টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ তিনি। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেকে রাজনীতির রঙ থেকে সযত্নে দূরে সরিয়ে রেখেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। যখনই তাঁর গায়ে কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের তকমা সাঁটার চেষ্টা হয়েছে, বুম্বাদা স্পষ্ট ভাষায় নিজের অরাজনৈতিক অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ৯ মে ব্রিগেডে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে টলিপাড়ায়।
শপথের মঞ্চে প্রসেনজিৎ, কিন্তু কেন? বিজেপির পক্ষ থেকে পদ্ম পুরস্কার প্রাপ্ত বিশিষ্টদের ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই অজয় চক্রবর্তী, মমতা শঙ্করদের সঙ্গে দর্শকাসনে দেখা গিয়েছিল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেও। তবে সশরীরে উপস্থিত থাকলেও, অভিনেতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— একে যেন তাঁর রাজনীতিতে যোগদানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা না হয়। তিনি কেবল একজন সাধারণ নাগরিক এবং শিল্পী হিসেবেই সেখানে গিয়েছিলেন।
নতুন সরকারের কাছে ‘বুম্বাদা’র একগুচ্ছ আর্জি রাজনৈতিক মঞ্চে পা রাখলেও, প্রসেনজিৎ কিন্তু আমজনতার অভাব-অভিযোগের কথা বলতে ভোলেননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত বিনীতভাবে নতুন বিজেপি সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন।
শিক্ষা ও শিল্প: বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলো যাতে দ্রুত খুলে দেওয়া হয় এবং রাজ্যে নতুন শিল্পের পরিবেশ তৈরি হয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
কর্মসংস্থান: সবথেকে বড় দাবি হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন পরিযায়ী শ্রমিকদের ইস্যু। বুম্বাদার কথায়, “নতুন প্রজন্মকে যেন কাজের খোঁজে আর রাজ্যছাড়া হতে না হয়।”
স্বাস্থ্য: হাসপাতাল পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং নতুন হাসপাতাল তৈরির কথা বলেছেন তিনি, যাতে অর্থাভাবে বা চিকিৎসার অভাবে কেউ প্রাণ না হারান।
ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে স্বপ্ন অভিনয় জগত নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ। তাঁর মতে, বাংলা সিনেমা ও সংস্কৃতিই রাজ্যের আসল ঐতিহ্য। এই শিল্পের দরজা যাতে বিশ্বের দরবারে আরও বড়ভাবে খুলে যায়, নতুন সরকারকে সেই দিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
অরাজনৈতিক অবস্থানে অনড় সম্প্রতি রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জলঘোলা হয়েছিল। তখনও তিনি পোস্ট করে জানিয়েছিলেন, “আমার গায়ে কোনও রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না।” সব দলের সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক, কিন্তু সক্রিয় রাজনীতিতে আসার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। পালাবদলের এই আবহেও তিনি নিজেকে কেবল একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং শিল্পী হিসেবেই ধরে রাখতে চান।
এখন দেখার, টলিউডের এই ‘অভিভাবক’-এর পরামর্শগুলো নতুন শুভেন্দু সরকার কতটা গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর করে।





