মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ‘থালাপথি’ স্টাইলে অ্যাকশন! কুর্সিতে বসেই ২টো বিরাট ফাইলে সই বিজয়ের

পর্দার ‘সরকার’ এবার বাস্তবের মাটিতে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং জোট গঠনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপথি বিজয়। রবিবার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর তাঁকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান। আর কুর্সিতে বসেই নিজের ‘মাস হিরো’ ইমেজ বজায় রেখে বিদ্যুৎগতিতে ‘অ্যাকশন’ শুরু করে দিলেন তিনি।

শপথ গ্রহণের পরপরই সোজা সচিবালয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন বিজয়। সেখানে বসেই তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই করেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ শাসনের দিশা স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিজয়ের প্রথম নির্দেশ ছিল— রাজ্যে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ। যা ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। তাঁর দ্বিতীয় নির্দেশটি ছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ— রাজ্যে মাদক চোরাচালান এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠন।

শপথ অনুষ্ঠানের পর জনতাকে সম্বোধন করে বিজয় আবেগঘন সুরে বলেন, “আমি কোনো রাজবংশ থেকে আসিনি, কিন্তু আপনারা আমাকে আপন করে নিয়েছেন। আমি আপনাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠকাব না। আজ থেকে এক নতুন যুগের সূচনা হলো— প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের যুগ।” তিনি পূর্বতন ডিএমকে সরকারের আমলের ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়েও সরব হন এবং স্বচ্ছতার জন্য রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলনাগ ভেট্রি কাজগম (TVK) ১০৮টি আসনে জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। গত ৫ দিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক এবং তীব্র রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর কংগ্রেস, বাম দল এবং ভিসিকে-র মতো সমমনোভাবাপন্ন দলগুলির নিঃশর্ত সমর্থনে অবশেষে ১২০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে সরকার গড়লেন বিজয়।

অভিনেতা থেকে জননেতা হয়ে বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর রাজনীতির গত ছয় দশকের ডিএমকে-এআইডিএমকে আধিপত্যের অবসান ঘটাল। এখন দেখার বিষয়, পর্দার মতো বাস্তবের মাটিতেও তিনি ‘ব্লকবাস্টার’ শাসন দিতে পারেন কি না।

সব খবর আগে পেতে আমাদের পেজে ফলো দিয়ে পাশে থাকুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy