আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে উত্তর কোরিয়া বরাবরই এক রহস্যের নাম। বিশেষ করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এবং তার পরমাণু শক্তির আস্ফালন নিয়ে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ চিরস্থায়ী। তবে এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, কিম জং উন যদি কোনোভাবে নিহত হন বা শত্রুপক্ষের হামলায় তার মৃত্যু ঘটে, তবে উত্তর কোরিয়ার হাতে থাকা পরমাণু অস্ত্রগুলো থেমে থাকবে না। বরং এক বিশেষ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তা নিজে থেকেই লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যাবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়া এক ভয়াবহ ‘ডেড হ্যান্ড’ (Dead Hand) প্রটোকল তৈরি করে রেখেছে। এই ব্যবস্থার মূল কথা হলো, যদি দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বা কমান্ড সেন্টার কোনো অতর্কিত হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়, তবুও দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেমে যাবে না। কম্পিউটারাইজড সিস্টেম বা আগে থেকে সেট করে রাখা নির্দেশনার মাধ্যমে দেশের পরমাণু ভাণ্ডার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিসাইল উৎক্ষেপণ শুরু হবে।
এই পদ্ধতিটি অনেকটা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘পেরিমিটার’ সিস্টেমের মতো। উদ্দেশ্য একটাই—যদি শত্রুপক্ষ মনে করে কিম জং উনকে হত্যা করলেই উত্তর কোরিয়াকে নিরস্ত্র করা যাবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। কিমের অবর্তমানেও এই ‘ডেড হ্যান্ড’ পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।
সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে পরমাণু নীতিতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেখানেও এই কৌশলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, দেশের নেতৃত্বের ওপর সরাসরি কোনো হামলার হুমকি দেখা দিলে বা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বিপন্ন হলে, পরমাণু হামলা চালানোর সিদ্ধান্তটি ‘স্বয়ংক্রিয়’ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, সেই চরম মুহূর্তে কিম জং উনের ব্যক্তিগত অনুমোদনের আর প্রয়োজন পড়বে না।
বিশ্লেষকদের ধারণা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর ‘কিলার চেইন’ (Kill Chain) কৌশলের পাল্টা হিসেবেই এই প্রটোকল সাজিয়েছেন কিম। কিলার চেইন পদ্ধতিতে শত্রুপক্ষ হামলার আগেই কিম জং উনকে খুঁজে বের করে খতম করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। কিন্তু ‘ডেড হ্যান্ড’ প্রটোকল কার্যকর থাকলে, কিমের মৃত্যু মানেই হবে এক ভয়ংকর মহাপ্রলয়ের শুরু, যা মুহূর্তেই কয়েক লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।
আপাতত উত্তর কোরিয়ার এই মরণফাঁদ বিশ্বজুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা কি অনিচ্ছাকৃত কোনো যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাবে? কিম জং উনের হাতে থাকা এই অদৃশ্য হাতটি কি সত্যিই পৃথিবীকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে যাবে? উত্তর সময়ের কাছে।





