জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমীকরণ যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে, ঠিক তখনই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর পালটা চাপের রাজনীতি শুরু করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৃণমূলের নানাবিধ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এবার পালটা শর্ত ছুড়ে দিলেন বহরমপুরের এই দাপুটে নেতা। অধীরের সাফ কথা, “জোট করতে হলে আগে রাহুল গান্ধীকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে হবে।”
দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। কিন্তু জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী জোট গঠনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীকে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। যদিও আসন রফা এবং নেতৃত্ব নিয়ে দুই দলের মধ্যে টানাপোড়েন থামেনি। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার নিজেদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তাকেই এবার চ্যালেঞ্জ করলেন অধীর।
কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অধীর চৌধুরী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জাতীয় স্তরে কংগ্রেসই জোটের প্রধান স্তম্ভ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই বিজেপিকে হারাতে জোটের প্রতি দায়বদ্ধ হন, তবে তাঁকে কংগ্রেসের নেতৃত্ব এবং রাহুল গান্ধীর প্রধান ভূমিকা স্বীকার করে নিতে হবে। অধীরের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধীর চৌধুরীর এই কঠোর অবস্থান আসলে তৃণমূলের ওপর পাল্টা চাপ তৈরির কৌশল। একদিকে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে ধোঁয়াশা, অন্যদিকে সর্বভারতীয় স্তরে নেতৃত্বের লড়াই—এই দুইয়ের মাঝে অধীরের এই ‘শর্ত’ তৃণমূল নেত্রীকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলবে।
এখন দেখার, অধীরের এই কড়া শর্তের পর তৃণমূল ভবনের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে নমনীয় হবেন, নাকি এই শর্তের জেরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্দরে ফাটল আরও চওড়া হবে? ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাবলির দিকে।





