উত্তরবঙ্গের রাজনীতির এপিসেন্টার শিলিগুড়িতে কি বড়সড় কোনও পরিবর্তনের সুর বাজছে? একদিকে শিলিগুড়ি পুরনিগম ও মহকুমা পরিষদ দখলে নিতে নীল-নকশা তৈরি করছে বিজেপি, আর অন্যদিকে খোদ তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র ডামাডোল। মেয়র গৌতম দেবের ইস্তফার দাবি তুলে এবার সরব হলেন দলেরই একাংশ, যার মধ্যে রয়েছেন একজন প্রভাবশালী মেয়র পারিষদও।
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি পুরনিগমের কয়েকটি ওয়ার্ডে তৃণমূলের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মেয়রের কার্যকারিতা নিয়ে। সূত্রের খবর, দলের একজন প্রবীণ কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ মেয়রের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে সমন্বয়ের অভাবের কারণেই মানুষ তৃণমূল থেকে মুখ ফেরাচ্ছে।
তৃণমূলের এই গৃহযুদ্ধের সুযোগ নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করতে রাজি নয় গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুরনিগম ও মহকুমা পরিষদ পুনর্দখলের লড়াইয়ে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরের প্রশাসনিক দখল নিতে তারা ‘অপারেশন শিলিগুড়ি’র প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন।
মেয়র গৌতম দেব অবশ্য এই ইস্তফার জল্পনা বা দলের ভেতরের বিরোধ নিয়ে সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দলের ভেতর থেকেই যখন বিরোধিতার সুর ওঠে, তখন প্রশাসনের রাশ আলগা হওয়া স্বাভাবিক। আর ঠিক এই ফাটল দিয়েই শিলিগুড়িতে পদ্ম ফোটাতে চাইছে বিজেপি।
শিলিগুড়ির এই রাজনৈতিক নাটকের শেষ অঙ্ক কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই দেখার। মেয়র কি শেষ পর্যন্ত তাঁর পদ ধরে রাখতে পারবেন, নাকি বিরোধীদের চাপের মুখে শিলিগুড়ির প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় কোনও রদবদল ঘটবে? উত্তর লুকানো রয়েছে সময়ের গর্ভে।





