বিশ্বজুড়ে ফের এক অজানা ভাইরাসের আতঙ্ক। মাঝসমুদ্রে হান্টাভাইরাস (Hantavirus) হানা দেওয়ার পর এবার তড়িঘড়ি পদক্ষেপ শুরু করল স্পেন প্রশাসন। একটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরী বা ক্রুজ শিপের ১৪৭ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সংক্রমণের ভয় এতটাই বেশি যে, আক্রান্তদের বিশেষ নজরদারিতে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে মেডিক্যাল ক্যাম্পও সক্রিয় করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজ ও ক্যানারি আইল্যান্ডের তৎপরতা: জানা গিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছেছে। সেখানে বিশেষ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি করে যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্পেন সরকার। যাত্রীদের নামিয়ে প্রথমেই তাঁদের স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভাইরাসের সংক্রমণ যাতে কোনোভাবেই মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
অ্যানডেস স্ট্রেইনের হদিস: ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভাইরাসের অত্যন্ত সংক্রামক ‘অ্যানডেস স্ট্রেইন’-এর হদিস মিলেছে যাত্রীদের শরীরে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্পে বেশ কিছু যাত্রীকে ‘অবজারভেশনে’ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্ট্রেইনটি মানুষের শরীরে দ্রুত থাবা বসাতে সক্ষম, যা থেকে বড়সড় মহামারির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মাঝসমুদ্রে আতঙ্ক: ১৪৭ জন যাত্রী নিয়ে ওই বিলাসবহুল ক্রুজ শিপটি যখন তার গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল, তখনই আচমকা বেশ কয়েকজনের শরীরে রহস্যময় উপসর্গ দেখা দেয়। রক্ত পরীক্ষার পর হান্টাভাইরাসের অস্তিত্ব মেলায় রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে যায়। মাঝসমুদ্রে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয় তীব্র আতঙ্ক।
হান্টাভাইরাস ও বর্তমান পরিস্থিতি: সাধারণত ইঁদুরের লালা বা মলমূত্র থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। এটি মানুষের ফুসফুস ও কিডনির ওপর সরাসরি আক্রমণ করে। স্পেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের প্রত্যেকের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হবে। পরবর্তী কোনো নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁদের আইসোলেশনে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমানের মাধ্যমে করোনা যেভাবে গোটা বিশ্বে ছড়িয়েছিল, জলপথের এই সংক্রমণ কি তেমনই কোনো নতুন বিপদের ইঙ্গিত? এই আশঙ্কায় আপাতত ঘুম উড়েছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। উদ্ধারকাজের পরবর্তী খবরের জন্য নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।





