শিক্ষকতার আঙিনা থেকে সরাসরি রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুদায়িত্ব। আর শপথ নেওয়ার পর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নিজের মেজাজ স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের নতুন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। রবিবার বর্ধমানে পা রেখেই তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে ভুয়ো এসটি (ST) সার্টিফিকেটের রাজত্ব আর চলবে না। যারা এই অবৈধ নথি ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছেন, এমনকি যেসব সরকারি আধিকারিক এর নেপথ্যে রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও শুরু হচ্ছে কড়া আইনি পদক্ষেপ।
শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাঁওতালি ভাষায় শপথ নিয়েছিলেন বাঁকুড়ার রানীবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। তারপর থেকেই জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে তাঁকে নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। রবিবার সকালে পূর্ব বর্ধমান জেলার জাহের থানে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
ক্ষুদিরাম টুডু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “রাজ্যে যত ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে, সবকটি খুঁজে বের করে নির্মূল করা হবে। শুধু সার্টিফিকেট বাতিল নয়, এর দায় এড়াতে পারবেন না অসাধু আধিকারিকরাও। যাঁরা বেআইনিভাবে এই শংসাপত্র বিলি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্ত্রীর নিশানায় শুধু নতুন সার্টিফিকেট নয়, বরং যাঁরা ইতিমধ্যে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বা সরকারি চাকরি করছেন, তাঁরাও রয়েছেন। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তদন্তের জাল অনেক দূর গড়াবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্র খতিয়ে দেখা হবে।
শিক্ষক থেকে মন্ত্রী: জঙ্গলমহলের নতুন সমীকরণ পেশায় শিক্ষক ক্ষুদিরাম টুডু দীর্ঘদিন ধরেই আদিবাসী সমাজের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে পরিচিত মুখ। ‘ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল’ (BJMPM) সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে জঙ্গলমহলে তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব অনস্বীকার্য। এর আগে দু’বার ভোটের ময়দানে নামলেও জয়ের স্বাদ পাননি। তবে এবার তিনি ইতিহাস গড়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদাকে ৫২ হাজার ২৬৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বিধানসভায় নিজের জায়গা পাকা করেছেন তিনি।
বন্ধ হোস্টেল খোলা ও শিক্ষার উন্নয়নে নজর দফতর এখনও বণ্টন না হলেও নিজের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন এই লড়াকু নেতা। তিনি জানান, তৃণমূল জমানার অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটানোই তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য। এর পাশাপাশি আদিবাসী পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের মালদা, কোচবিহারের বহু আদিবাসী হোস্টেল দীর্ঘদিন ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। মন্ত্রী হিসেবে তাঁর অগ্রাধিকার হবে সেই সব হোস্টেল দ্রুত চালু করা, যাতে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা পুনরায় শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর এই কড়া অবস্থান জঙ্গলমহল তো বটেই, গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে বড়সড় কম্পন তৈরি করতে চলেছে। এখন দেখার, এই ‘ক্লিন আপ’ ড্রাইভ কবে থেকে পূর্ণ শক্তিতে শুরু হয়।





