বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ ১৫ বছরের একাধিপত্য আর তৃণমূলী সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসল ভারতীয় জনতা পার্টি। পরিবর্তনের ডাক দিয়ে যে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত ঘাসফুল শিবিরের ভিত নাড়িয়ে দিয়ে বাংলায় পদ্ম ফোটাল। এই মেগা জয়ের কান্ডারি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের নবমতম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী।
রাজভবনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন শুভেন্দু। তবে শপথ নেওয়ার পর কলকাতায় বিশ্রাম নয়, বরং নিজের শিকড় এবং মানুষের টানেই মধ্যরাতে তিনি রওনা হলেন জন্মভূমি কাঁথির উদ্দেশ্যে। কলকাতা থেকে কাঁথি যাওয়ার দীর্ঘ পথজুড়ে এদিন দেখা গেল অভূতপূর্ব দৃশ্য। মাঝরাস্তাতেও মুখ্যমন্ত্রীকে একঝলক দেখতে নেমেছিল মানুষের জনজোয়ার। রানিহাটি, পাঁচলা, উলুবেড়িয়া থেকে কোলাঘাট—প্রতিটি মোড়ে মোড়ে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁদের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে। মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নেমে তাঁদের সাথে কথা বলেন শুভেন্দু। সাধারণ মানুষের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, বাংলা এক নতুন দিনের অপেক্ষায় ছিল।
আজকের দিনটি আরও একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরুর প্রথম দিনে কবিগুরুর চরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, কবির ভাবনা ও আদর্শই হবে তাঁর সরকারের চলার পথের মূল পাথেয়। তাঁর কথায়, “আজ পশ্চিমবঙ্গের নবমতম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলাম। কবিগুরুর আদর্শকে পাথেয় করেই সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই জয় কেবল এক ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলার মানুষের এক দীর্ঘকালীন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং নতুন আশার প্রতিফলন। ১৫ বছরের পুরনো শাসনব্যবস্থা ধূলিসাৎ করে দিয়ে বিজেপি যেভাবে নিজের মাটি শক্ত করল, তা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির। কাঁথির শান্তিকুঞ্জ থেকে নবান্ন—এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় কোন কোন বড় পরিবর্তন আসে, এখন সেটাই দেখার। তবে প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর এই নিবিড় জনসংযোগ বুঝিয়ে দিল, আসন্ন দিনগুলোতে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ঘরানার শাসন শুরু হতে চলেছে।





