শনিবার ব্রিগেডের মেগা মঞ্চে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় নিলেও, দিল্লির মসনদে বসে থাকা মোদী সরকার কিন্তু এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে রাজি নয়। ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে বড়সড় অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে ফেলেছে কেন্দ্র।
সূত্রের খবর, গত ১২ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের সঙ্গে সংঘাত বা প্রশাসনিক বাধার কারণে রাজ্যে যে যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো আটকে ছিল, তার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য পরিষ্কার—নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ‘ডবল ইঞ্জিন’ গতিতে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া।
রাজনাথ সিং-এর হাতে বড় দায়িত্ব
দিল্লির অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বাংলায় আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-কে। তিনি ইতিমধ্যেই প্রতিটি মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। মন্ত্রকগুলোও তথ্য জমা দিতে শুরু করেছে। লক্ষ্য একটাই—দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত করা।
যে প্রকল্পগুলোতে মিলবে সবচেয়ে বড় সুবিধা:
আয়ুষ্মান ভারত: মমতা সরকারের আমলে ‘স্বাস্থ্য সাথী’র কারণে এই প্রকল্পটি রাজ্যে ব্রাত্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত অনুমোদন পাবে। এর ফলে যোগ্য পরিবারগুলো বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY): নাম বিভ্রাট আর দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সাল থেকে এই প্রকল্পের টাকা বন্ধ ছিল। কেন্দ্র এখন পূর্ণ শক্তিতে এই প্রকল্প পুনরায় চালু করে গরিব মানুষের মাথার ওপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করতে চাইছে।
পিএম কিষান ও শস্য বিমা: রাজ্যে ‘কৃষি বন্ধু’ বা ‘বাংলা শস্য বিমা’ থাকলেও এখন থেকে কৃষকরা সরাসরি পিএম কিষান নিধি এবং কেন্দ্রীয় শস্য বিমার পূর্ণ সুবিধা পাবেন।
সীমান্তের কাঁটাতার: জমিজট এবং রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ অনেক জায়গায় ঝুলে ছিল। এবার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জল জীবন মিশন ও মৎস্য সম্পদ: কেন্দ্রীয় বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলার প্রতিটি ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং মৎস্যজীবীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে জোর কদমে কাজ শুরু হতে চলেছে।
কেন এই তৎপরতা?
রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের ‘অচলবস্থা’ কাটিয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর সরাসরি সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে রাজ্যবাসীর মনে দ্রুত জায়গা করে নেওয়াই এখন মোদী-শুভেন্দু জুটির প্রধান কৌশল।





