“ভয় পাবেন না,আমাকে মেসেজ করুন”-আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা অভিষেকের

একদিকে রাজভবনে যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই অন্য প্রান্ত থেকে গর্জে উঠলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলে বঙ্গ রাজনীতির পারদ এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিলেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট দাবি, “এবারের লড়াই ছিল অসম, যেখানে প্রায় ৩০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারকে পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

ভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে তোপ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এই প্রথমবার ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সরব হলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা—সবই ছিল চরম পক্ষপাতদুষ্ট। ইভিএম (EVM) স্থানান্তর, কন্ট্রোল ইউনিটের অসঙ্গতি এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্নগুলি উঠেছে, তাতে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটেছে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

‘হিংসার বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই’ ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও এদিন কড়া প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূল সাংসদ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং ঘরছাড়া হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে কাউকে নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস আর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা যায় না।” তিনি সাফ জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল দিল্লিতে এবং বাংলায়—উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের অধিকার রক্ষায় আপসহীন বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

কর্মীদের জন্য ‘সরাসরি অভিষেক’ দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এক অভিনব বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো কর্মী যদি ভয়ভীতি বা হিংসার শিকার হন, তবে তাঁরা যেন সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমনকি অভিষেককে সরাসরি ‘DM’ (Direct Message) করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের আইনি ও গণতান্ত্রিক পথে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূলের এই অবস্থান থেকে পরিষ্কার, হার-জিতের ঊর্ধ্বে গিয়ে আগামী দিনে সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইকে দীর্ঘমেয়াদী রূপ দিতে চাইছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy