চাকুরিজীবীদের জন্য বড়সড় খুশির খবর নিয়ে আসতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (PF) সংক্রান্ত নিয়মকানুন সহজ করার পর এবার পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (EPS-95)-এর অধীনে ন্যূনতম মাসিক পেনশনের পরিমাণ ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ৭,৫০০ টাকা করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে মোদী সরকার।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ও নতুন আশা: ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী প্রতিনিধিদের একটি বিশেষ দল অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের প্রধান দাবি ছিল দুটি— মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৭,৫০০ টাকায় উন্নীত করা এবং এর সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা (DA) যুক্ত করা। জানা গিয়েছে, অর্থমন্ত্রী এই দাবিগুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন, যা কয়েক লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
পিএফ ও পেনশনের অংকটা ঠিক কী? সাধারণত একজন কর্মচারীর মূল বেতনের ১২ শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা হয়। সমপরিমাণ অর্থ জমা দেন নিয়োগকর্তাও। তবে নিয়োগকর্তার দেওয়া সেই অংশের মধ্যে ৮.৩৩ শতাংশ যায় এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমে (EPS) এবং বাকি ৩.৬৭ শতাংশ জমা হয় ইপিএফ (EPF) অ্যাকাউন্টে। বর্তমানে এই জমানো টাকার ওপর ভিত্তি করেই অবসরকালীন পেনশন পাওয়া যায়।
আপনার পেনশন কত হবে? হিসেব বুঝে নিন: বর্তমানে পেনশন গণনার একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা রয়েছে। এটি মূলত আপনার পেনশনযোগ্য বেতন এবং চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে।
সূত্র: (পেনশনযোগ্য বেতন x চাকরির মেয়াদ) / ৭০
একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। ধরা যাক আপনার বর্তমান বেতন ১৫,০০০ টাকার সীমার মধ্যে। সেক্ষেত্রে ১২ বছরের চাকরির জন্য আপনার মাসিক পেনশন হবে প্রায় ২,৫৭১ টাকা। যদি আপনার চাকরির মেয়াদ ২০ বছর হয়, তবে এই পেনশনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৪,২৮৫ টাকা।
মনে রাখার মতো বিষয়: একটি জরুরি নিয়ম হলো, আপনার মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতা যদি ১৫,০০০ টাকার বেশিও হয়, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী পেনশনের হিসেবটি কেবল ১৫,০০০ টাকার ওপর ভিত্তি করেই গণনা করা হবে। তবে সরকার যদি ন্যূনতম পেনশনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে দেয়, তবে পকেটে আসা টাকার পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
বাজেটের আগে কেন্দ্রের এই ইতিবাচক মনোভাব সত্যি হলে, লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের অবসরের দিনগুলো যে আরও সুরক্ষিত ও স্বস্তিদায়ক হবে, তা বলাই বাহুল্য।





