বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ‘কাঁথির ভূমিপুত্র’ শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবনের পরিবর্তে কলকাতার ব্রিগেডে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। এর সঙ্গেই অবসান হলো দীর্ঘ কয়েক দশকের বাম ও তৃণমূল শাসনের পরবর্তী অধ্যায়ের এবং সূচিত হলো রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার।
শপথ গ্রহণের পরেই এক অনন্য আবেগী মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীও পরম স্নেহে তাঁর পিঠ চাপড়ে দেন এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানান। এরপর রাজ্যপাল এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে করমর্দন করেন তিনি। যোগী আদিত্যনাথ নিজের হাতে শুভেন্দুকে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে বরণ করে নেন।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এদিন আরও পাঁচজন হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তালিকায় রয়েছেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র দিলীপ ঘোষ, আসানসোলের অগ্নিমিত্রা পাল, উত্তরবঙ্গের নিশীথ প্রামাণিক এবং অশোক কীর্তনীয়া ও ক্ষুদিরাম টুডু। যদিও মন্ত্রিসভার এই নতুন সদস্যদের হাতে কোন কোন দফতর দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি নবান্ন বা বিজেপি নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী কার্যত ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুটি হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নন্দীগ্রামে তিনি তাঁরই একদা সহযোগী পবিত্র করকে ৯,৬৬৫ ভোটে পরাজিত করেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরে তাঁকে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেন শুভেন্দু। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। আজ সেই পথ চলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।





