আজ পঁচিশে বৈশাখ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ ও আবেগঘন দিনে বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ব্রিগেড থেকেই আজ রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে চলেছে।
এদিন ব্রিগেডে পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রী জনতার বিপুল উচ্ছ্বাসের মাঝে হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ তিনি পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। শুভেন্দুর এই রাজনৈতিক উত্থান এবং মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর মনোনয়ন দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই জয়কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, শুভেন্দু অধিকারীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ এবার প্রকৃত অর্থেই ‘সোনার বাংলা’ হয়ে উঠবে। সুকান্ত মজুমদারের কথায়, “আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই সাফল্য আমাদের সকলের দীর্ঘ লড়াই ও মিলিত চেষ্টার ফল। শুভেন্দুদার হাত ধরে আমরা বাংলাকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাব।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শুভেন্দু অধিকারীকে এই পদের জন্য “একদম সঠিক” এবং “যোগ্যতম” পছন্দ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন, তাতে ওঁর চেয়ে ভালো বিকল্প আর কেউ হতে পারত না। আমাদের ২০৭ জন বিধায়ককে এখন মানুষের জন্য দিনরাত কাজ করতে হবে। গত ৫০ বছরে বাংলা যা পায়নি, আগামী ৫ বছরে আমরা সেই উন্নয়ন করে দেখাব।”
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকাল শেষে তৃণমূল কংগ্রেস এবার ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকে বিরোধী আসনে বসতে চলেছে। আজকের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্রিগেড চত্বরে বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ‘ঝালমুড়ি চর্চা’ ও বিজয়োৎসব তুঙ্গে।





