ঝালমুড়ির ‘ঝালে’ পুড়ছেন দিদি? ব্রিগেডের রাজকীয় শপথে মোদী-ম্যাজিকের সঙ্গে এবার ঝালমুড়ি উৎসব!

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় আজ থেকে শুরু হতে চলেছে। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই মেগা ইভেন্টের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার উঠে এসেছে এক অদ্ভুত বিষয়— ‘ঝালমুড়ি’। বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝালমুড়ি খেয়ে যে আলোচনার সূত্রপাত করেছিলেন, আজ ব্রিগেডের বিজয় উৎসবে সেই ঝালমুড়িই হয়ে উঠেছে বিজেপি কর্মীদের জয়ের প্রতীক।

শনিবার সকাল থেকেই ব্রিগেডের মেজাজ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ময়দানের আনাচে-কানাচে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে দেদার বিলি করা হচ্ছে ঝালমুড়ি। বিজেপি কর্মীদের সাফ কথা, “প্রধানমন্ত্রী যখন প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন, তখনই বাংলার পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। আজ সেই জয় পূর্ণতা পেয়েছে, তাই ঝালমুড়ি খেয়েই আমাদের উৎসব।” এক বিজেপি কর্মীকে বলতে শোনা গেল, “ঝালমুড়ির ঝালে এবার দিদি জ্বলুক।” এমনকি কালিপদ হলের (কীলাঘাট) ঠিকানাতেও ঝালমুড়ি পাঠানো হবে বলে কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করেছেন গেরুয়া শিবিরের সমর্থকরা। ঝালমুড়ির পাশাপাশি বর্ধমানের বিখ্যাত সীতাভোগ ও মিহিদানার স্টলও নজর কেড়েছে সকলের।

আজকের এই ঐতিহাসিক দিনটি কাকতালীয়ভাবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী বা পঁচিশে বৈশাখ। সেই বিশেষ দিনটিকে মর্যাদা দিতে ব্রিগেডের মঞ্চে রবীন্দ্রনাথের মূর্তিও সাজিয়ে রাখা হয়েছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে। জয় শ্রীরাম স্লোগান এবং রবীন্দ্রসংগীতের এক অদ্ভুত মেলবন্ধনে আজ সেজেছে ব্রিগেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজনাথ সিং এবং বিজেপি শাসিত ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে স্মৃতি ইরানি, নীতিন নবীন এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উপস্থিতিতে ব্রিগেড আজ যেন এক ‘চাঁদের হাট’।

শপথ গ্রহণের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই হুডখোলা গাড়িতে ময়দানে প্রবেশ করেন হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উপস্থিত হয়েছেন বিভিন্ন মঠ ও আখড়ার কয়েকশ সন্ন্যাসী, যা মঞ্চে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করেছে। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী মহাকরণ থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন। তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ৩ তলার ঘরটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত মহাকরণই হবে তাঁর ঠিকানা। শান্তিকুঞ্জের মেজো ছেলের এই উত্তরণকে ঘিরে এখন গোটা বাংলা তথা ভারত তাকিয়ে আছে ব্রিগেডের দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy