তিলোত্তমার আকাশ আজ গেরুয়া আবীরে রঙিন। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে আজ, শনিবার (৯ মে, ২০২৬), পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড আজ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করেছে ব্রিগেডে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো শহর।
আজকের এই ‘সুপার স্যাটারডে’ উপলক্ষে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড যেন এক মহোৎসবে মেতেছে। শুধু বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাই নন, আজ ব্রিগেডে ভিড় জমিয়েছেন অগণিত সাধু-সন্ত। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক সাধুর কথায়, “আজ আমাদের পরম আনন্দের দিন। মোগল শাসন, ইংরেজ শাসন, এমনকি কমিউনিস্ট ও জয় বাংলার (তৃণমূল) অত্যাচারী শাসনও আমরা দেখেছি। কিন্তু বিজেপি আসায় আজ হিন্দুরা দু-হাত তুলে আনন্দ করতে পারছেন।” ব্রিগেডের মাঠে এখন উৎসবের মেজাজ। ঝালমুড়ির কাউন্টারে লম্বা লাইন, আর মুখে মুখে ফিরছে বিশেষ ‘পদ্ম সন্দেশ’।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো খামতি রাখছে না প্রশাসন। মূল মঞ্চ এবং সংলগ্ন এলাকা কার্যত দুর্গ বানিয়ে ফেলেছে প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষায় থাকা এসপিজি (SPG)। বাইরের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। ব্রিগেডের মূল মঞ্চের দুই পাশে বিশাল হ্যাঙার তৈরি করা হয়েছে। রেড রোড থেকে শুরু করে সংলগ্ন এলাকা প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপির কাটআউট ও পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। ভিভিআইপিদের জন্য তৈরি হয়েছে আলাদা যাতায়াতের রাস্তা।
এই মেগা ইভেন্টে উপস্থিত থাকছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-সহ ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিও থাকছেন বিশেষ অতিথি হিসেবে। গতকালই কলকাতায় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছিলেন অমিত শাহ। নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুর— টানা দুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে চলেছেন ৫৫ বছর বয়সী শুভেন্দু। বিধান রায় থেকে জ্যোতি বসু, দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ফের জেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী পেল পশ্চিমবঙ্গ। পূর্ব মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র হিসেবে তিনি রাজ্যের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন।





