ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মেগা নিলামে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে রাজস্থান রয়্যালসে নাম লিখিয়ে ইতিহাস গড়েছে বৈভব সূর্যবংশী। তবে এই বিস্ময় বালকের আইপিএল অভিষেক নিয়ে এখন ক্রীড়ামহলের পাশাপাশি আইনি মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশ্ন উঠেছে— ১৫ বছরের এক কিশোরকে কি পেশাদার ক্রিকেটের মতো কঠিন ও বাণিজ্যিক একটি জায়গায় খেলানো যায়? এটি কি পরোক্ষভাবে শিশুশ্রম নয়?
আইন কী বলছে? ভারতের ‘শিশু ও কিশোর শ্রম (নিষিদ্ধকরণ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ১৯৮৬’ অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো কাজে নিয়োগ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকলেও বিপজ্জনক কোনো কাজে তাদের নিয়োগ করা যায় না। বৈভবের বয়স যেহেতু ১৫, তাই সে কিশোর (Adolescent) হিসেবে গণ্য হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ক্রীড়া বা বিনোদন জগতকে সাধারণত চিরাচরিত শ্রমের আওতায় ফেলা হয় না। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, শিশু বা কিশোররা যদি তাদের সৃজনশীলতা বা খেলাধুলার প্রতিভার বিকাশ ঘটায়, তবে তাকে শিশুশ্রম বলা যায় না। তবে এখানে বিসিসিআই-এর (BCCI) নিয়ম এবং শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বিসিসিআই-এর নিয়ম ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, আগে একজন ক্রিকেটারের ন্যূনতম বয়স হতে হতো ১৯ বছর। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে সেই নিয়মে বদল আনা হয়। বৈভব ইতোমধ্যেই বিহারের হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছে এবং ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও তার জায়গা হয়েছে। বিসিসিআই-এর নির্দিষ্ট মেডিকেল প্রোটোকল ও হাড়ের গঠন পরীক্ষার (Bone Density Test) মাধ্যমে তার বয়সের সত্যতা ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
বিতর্কের মূলে কী? সমালোচকদের প্রশ্ন মূলত আইপিএলের বাণিজ্যিক চাপ নিয়ে। এই বয়সের একটি ছেলের ওপর কোটি টাকার নিলামের চাপ, মিডিয়া লাইমলাইট এবং গ্যালারির উন্মাদনা তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া, পূর্ণবয়স্ক ফাস্ট বোলারদের ১৫০ কিমি গতির বল মোকাবিলা করা ১৫ বছরের কিশোরের জন্য শারীরিক ঝুঁকির কি না, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।
উপসংহার: আইনিভাবে বৈভব সূর্যবংশীর আইপিএল খেলাকে সরাসরি ‘শিশুশ্রম’ বলা কঠিন, কারণ এটি তার পেশা নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্যের বহিঃপ্রকাশ। তবে কিশোর বয়সের সুরক্ষা ও শিক্ষার অধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। রাজস্থান রয়্যালস এবং বিসিসিআই এখন কীভাবে এই তরুণ তুর্কিকে সামলায়, সেটাই দেখার বিষয়।





