দক্ষিণী সিনেমার ‘থালাপথি’ এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতির নতুন ‘মাস্টারমাইনড’। রুপোলি পর্দার লড়াই শেষে এবার বাস্তবের প্রশাসনিক যুদ্ধে বাজিমাত করলেন সুপারস্টার বিজয়। তাঁর রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (TVK) তামিলনাড়ুর মসনদ দখলের পথে এক বিশাল ধাপ এগিয়ে গেল। আর এই যাত্রায় বিজয়ের তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়াল বামেদের অকুণ্ঠ সমর্থন।
নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক টানাপড়েন শেষে আজ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগারের খুব কাছে দাঁড়িয়ে বিজয়। আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই বাম দলগুলি বিজয়ের দলকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করায় ডিএমকে এবং এআইডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কেন এই সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে-র দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী ছিল বামেরা। কিন্তু এবার বিজয়ের ‘ক্লিন ইমেজ’ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রেখে বাম শিবির বিজয়ের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সমর্থনের ফলে তামিলনাড়ুতে এক নতুন বিকল্প শক্তির উত্থান ঘটল, যা কয়েক দশকের দ্বি-মেরু রাজনীতিকে কার্যত তছনছ করে দিয়েছে।
শপথগ্রহণের প্রস্তুতি তুঙ্গে: সূত্রের খবর, বামেদের সমর্থনপত্র হাতে পাওয়ার পরই বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই চেন্নাইয়ের রাজপথে বিজয় মিছিল এবং বড় কোনো স্টেডিয়ামে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকবে দাক্ষিণাত্য।
কী বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা? এক সময়ের সুপারস্টার এমজিআর বা জয়ললিতার পর বিজয়ই প্রথম অভিনেতা, যিনি এত দ্রুত রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে সক্ষম হলেন। বিজয়ের এই জয় কেবল তাঁর জনপ্রিয়তার নয়, বরং তামিলনাড়ুর মানুষের ‘পরিবর্তন’-এর আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করছে।
এখন দেখার, বাম-বিজয় এই নতুন রসায়ন তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক কাঠামোয় কতটা বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত— ‘থালাপথি’ বিজয়ের হাত ধরে দক্ষিণের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।





